২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চাইবে বাংলাদেশ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে রিয়াদ থেকে ঢাকায় এসেছেন ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী মাজেদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাসাবি এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আলতোয়াজরি এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। গতকাল রাতে তারা ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা। বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের প্রতিনিধিদের মাঝে এর আগে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও মন্ত্রী পর্যায়ে এই প্রথমবারের মতো সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি দলটির সাথে ১৬টি প্রকল্প নিয়ে সংলাপে বসবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে কয়েকটিতে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকও সই হবে। বৈঠক উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম জানান, সৌদি আরবের এই প্রতিনিধি দলটির সাথে আছেন দেশটির ‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের’ প্রতিনিধিরা। এই ফান্ডটির নেতৃত্বে আছেন যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান। আমরা সহযোগিতা শুরু করছি সেসব প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প নিয়ে, যে বিষয়ে তাদের এবং আমাদের আগ্রহ আছে। তিনি জানান, ১৬টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি খাতের পাশাপাশি অন্য খাতেও বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব। তাদের এ সফরকে কেন্দ্র করে ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব তৈরি করেছে বাংলাদেশ। পর্যটন, জ্বালানি, অবকাঠামো খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিডা এ প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার রাতেই প্রতিনিধি দলের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। আজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সাক্ষাত্ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলটির আলোচনা-মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি নির্ধারিত আছে।

সৌদি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরে বিদ্যুত্ ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে দুটি চুক্তি ও ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। বিডা চেয়ারম্যান জানান, তেল পরিশোধনাগার, সিমেন্ট, সার ও ইলেকট্রনিক্স কারখানা স্থাপনে একাধিক চুক্তি হতে পারে। এছাড়া পর্যটন, টেলিযোগাযোগ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, বস্ত্র ও পাট খাতে বেশকিছু সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। পাশপাশি ওষুধসহ বেশ কিছু খাতে বিনিয়োগ করতে সৌদি আরবেকে প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের বীমার আওতায় আনা ও রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে সমঝোতা চুক্তিও হতে পারে। বিডা চেয়ারম্যান জানান, দেশে রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল পরিবশের কারণেই বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে সৌদি আরব। চীন, পাকিস্তান কিংবা ভারতের চেয়ে এখানে কম খরচে ব্যবসা করে বেশি মুনাফার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চান সৌদি বিনিয়োগকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় কলেবরের প্রতিনিধিদের সফর হচ্ছে এটা। তারা ৩০ বছর আগে ইসলামী ব্যাংকে একটি ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করেছিল। এবার বড় বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলের অর্ধেক সদস্যই সৌদি আরবের বেসরকারি খাতের, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি আরামকো-এর মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকায় তাদের বিনিয়োগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন তারা পূর্বের দিকে ঝুঁকেছে এবং বাংলাদেশ এর জন্য সবচেয়ে সঠিক জায়গা। সৌদি আরবে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত এবং এখনও প্রতিমাসে ২০ হাজারের বেশি মানুষ দেশটিতে যাচ্ছেন। আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে দুটি সৌদি কোম্পানির প্রতিনিধিরা আসছেন। তারা বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করবে। তারা ময়মনসিংহ ও জামালপুরে বাংলাদেশি টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং তাদের সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে নিয়োগের সুযোগ করে দেবে। বিমান চলাচল খাতে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও অন্যান্য সেবার অবকাঠামো তৈরিতে তারা বিনিয়োগ করবে। এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ কোটি ডলার হতে পারে। তাছাড়া ফেনীতে ১০ কোটি ডলারের একটি সৌর বিদ্যুত্ প্রকল্পে বিনিযোগ আসতে পারে।