পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক কমেছে

 
বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কমায় গেল সপ্তাহে সার্বিক মূল্য সূচক কমে গেছে। গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের মতো বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে।
 
এ দিকে, সার্বিক মূল্য সূচক এবং বাজার মূলধন কমলেও বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
 
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে সূচক মোটামুটি ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মঙ্গলবার থেকেই বিক্রয়াদেশ বাড়তে থাকে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের নগদ অর্থের চাহিদাই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
 
গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২১৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৯৭০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাত্ আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। গত সপ্তহে গড় লেনদেন হয়েছে ৪৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৯৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও লেনদেনের শীর্ষে ছিল নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া আমান ফিড। সপ্তাহশেষে এ কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ৯৭ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মা। এ কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে ছিল ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।
 
গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে দশমিক ৪৫ শতাংশ। ডিএসইতে বাজার মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল চামড়া খাত। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর গড়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। দর বৃদ্ধিতে এর পর ছিল প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাত। আর দর হারানো খাতগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল টেলিযোগাযোগ খাত। এ খাতের বাজার মূলধন কমেছে ৩ শতাংশ। বাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা করেছে অন্য দুই অপারেটর এয়ারটেল ও রবি। এই খবরে শেয়ারবাজারে বিক্রয়চাপ বাড়ে গ্রামীণফোনের শেয়ারের। বাজার মূলধন কমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ খাতের কোম্পানিগুলোর বাজার দর গড়ে প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। সিমেন্ট খাতেও ছিল ব্যাপক বিক্রয় চাপ। লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের দর কমায় গড়ে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছে এ খাতের কোম্পানিগুলো।