কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ

বহু বিতর্কিত বিল সি-২৪এর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ করেছে। নাগরিক অধিকার গ্রুপ বি সি সিভিল লিবার্টিস এসোসিয়েশন এবং কানাডিয়ান এসোসিয়েশন অব রিফুজি লইয়ার্স যৌথভাবে এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। তারা বলেন, 'এই আইন কানাডার পরিচয়কে হেয় করছে। একই সঙ্গে সংবিধানও লঙ্ঘন করছে।' তারা আরও বলেন, 'এই আইন বলবৎ হওয়াতে কানাডার দ্বৈত নাগরিকেরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিককে পরিণত হয়েছে।'
 
বিসি সিভিল লিবার্টিজ এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক জস পিটারসন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'দ্বৈত নাগরিক আইনটি বলবৎ হওয়ার আগে সব কানাডিয়ান নাগরিকের সমান সুযোগ ও অধিকার ছিল। কে, কোথায় জন্ম নিয়েছে বা কোথা থেকে এসেছে সেটি কখনো কোনো প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু নতুন এই আইনের কারণে কানাডায় আমরা বিভক্ত হয়ে পরেছি। এই বিভক্তির ফলে আমরা কেউ বেশি অধিকার ভোগ করবো, আবার কেউ কম অধিকার ভোগ করবো। জোস পিটারসন ইতিপূর্বে ইয়াহু কানাডার কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'নাগরিত্ব বাতিলের এই আইনটি এক ধরণের পরিহাস।' তিনি বলেন, 'বৃটেনে ৮শত বছর আগে মধ্যযুগীয় কালচারের একটি আইন ছিল যে আইনের বলে দেশ থেকে নাগরিকদেরকে বহিস্কার করা যেত। ৮শত বছর পর সেই আইন আবার আমরা কানাডায় ফিরিয়ে এনেছি।'
 
টরন্টোস্থ প্রবাসী কন্ঠের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কানাডার ইমিগ্রেশন এন্ড রিফুজি অইনজীবীগণ এবং এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কানাডাও মনে করে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। তারা সবাই এই বিল সি-২৪ এর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
 
সিভিল রাইটস গ্রুপস এবং এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে নতুন এই আইন দ্বৈত নাগরিকদের জন্য বৈষম্যমূলক। এর মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিকদেরকে এক অর্থে ‘লেস কানাডিয়ান’ কাতারে ফেলা হয়েছে এবং কানাডায় জন্ম নেয়া নাগরিকদের চেয়ে কম অধিকারসম্পন্ন করে তোলা হয়েছে। বৃটিশ কলম্বিয়ার সিভিল লিবার্টিজ এসোসিয়েশন এর ভাষ্য মতে, দ্বৈত নাগরিকরা এখন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে গেল।
 
এদিকে বিল সি-২৪ এর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। কনজারভেটিভ পার্টির ফেডারেল ক্যাম্পেইন টিমের মুখপাত্র কেভিন ম্যানার্ড সাংবাদিকদের বলেন, সরকার বিল সি-২৪ এর বিরুদ্ধে করা সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জকে করবে।