অবন্তী সিঁথি। হুইসেল কুইন নামে পরিচিতি পেয়েছেন অনেক আগেই। গানের যেকোনো অংশে অসাধারণ শিস বাজিয়ে যেকোনো বাদ্যের অভাব পূরণ করে দিতে পারেন তিনি। সম্প্রতি কলকাতার জনপ্রিয় চ্যানেল জি বাংলার রিয়েলিটি শো সারেগামাপা-তে তার অসাধারণ পারফর্মেন্স মুগ্ধ করেছে সবাইকে। নিজের গানের পাশাপাশি বেশ ক’টি ইন্সট্রুমেন্টেও দক্ষতা তার সমানতালে। কথা বলেছেন নিজের গান ও সাম্প্রতিক ভাবনা নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
সারেগামাপার জার্নিটা কেমন ছিল?
অবন্তীর এমন আত্মপ্রত্যয়ই বলে দেয় সে থামার জন্য এমন অনেকরকম বাদ্য শিখে এ পথে হাঁটতে আসেননি। নিজের নতুন মৌলিক গান নিয়ে কাজ করছেন বর্তমানে। এছাড়া কয়েকজন মিউজিশিয়ানের সাথে একটি গ্রুপ তৈরিরও চেষ্টা চলছে। বিশ্ব নারী দিবসে অবন্তীর মতো এমন সকল আত্মপ্রত্যয়ী নারীর প্রতি জানাই শুভকামনা।
এক কথায় দারুণ। কারণ আমি মূলত সেখানে গিয়েছি শিখতে। গতবারের আসরে আমি বিশেষ পারফর্মার হিসেবে যখন গাইতে গিয়েছিলাম। তখনই সেখানকার আয়োজকদের নজরে পড়ি। এবারের পর্বে তাদেরই একজন অনুরোধ করেন অডিশনে নাম দেওয়ার জন্য। তবে আমি বরাবরই যেকোনো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তাদের এই শোতে যে পরিমাণ গ্রুমিং হয়, তাতে সত্যিই অংশ নেওয়াটা অনেক বড় অর্জন বলতে পারি যে কারো জন্য।
কলকাতার পারফর্মারদের সাথে আমাদের পারফর্মারদের পার্থক্য কেমন?
অনেকখানি। মূল পার্থক্য হলো রেয়াজ। আমরা বাংলাদেশ থেকে মোট ৭ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলাম। সেক্ষেত্রে আমি বলবো আমরা তাদের সিকিভাগ রেয়াজও করি না। এছাড়া ক্লাসিক্যাল দক্ষতার দিক থেকেও ওরা এগিয়ে। এ কারণেই আমি এই জার্নিটার সাথে থাকতে চেয়েছি। শিখতে চেয়েছি। এত বড় প্লাটফর্মে হারজিত্ বড় কিছু নয়। অংশগ্রহণের ফলে একজন পারফর্মারের যে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে এটাই অনেক বড় ব্যাপার।
কিন্তু অবন্তীর সাথে আয়োজক ও বিচারকরা যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। এমন সব কথা তো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে...
হুমম, এগুলো আমিও দেখেছি। কিন্তু এসব কথা আমাকে যারা ভালোবাসে তারা হয়তো তাদের অন্ধ ভালোবাসা থেকে বলছেন। আমি অবশ্যই বিচারকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এতে আক্ষেপও নেই আমার। তবে মন খারাপ হয়। আসলে দিনটা সেদিন আমার ছিল না। তবে সারেগামাপার পুরো জার্নিটা আমার জন্য অনেক বড় পুরস্কার।
বাংলাদেশেও ক্লোজআপ ওয়ানে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু গানের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে টার্নিং পয়েন্ট কোনটা?
আমি বলবো আমার একটি ফেসবুক ভিডিওর কথা। একদিন নিজ থেকেই কাপ দিয়ে রিদম বাজিয়ে ১টা গান আপলোড দিই। সেটিই হঠাত্ ভাইরাল হয়ে যায়। আমার ওই ভিডিওটিই মূলত পরিচিতি এনে দেয়। কারণ ওই ভিডিওটি দেখেই বেশকিছু জায়গা থেকে আমি ডাক পাই।
আপনার এই কাপ সং-এর চিন্তা কী বিদেশি কারোটা দেখে মাথায় এলো?
এটা হয়তো অনেকে বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু আমি নিজ থেকেই এভাবে গাইতে শুরু করি। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্টের প্রতি ঝোঁক ছিল। আমি আমার কাপ সং ভিডিও আপলোড দেওয়ার পর জানতে পারি পৃথিবীতে বিভিন্ন ভাষাভাষীর এই গান রয়েছে। তবে বাংলা গানে আমিই প্রথম। পরে আমি গুগল সার্চ করে জানতে পারি যে, কাপ সং অনেক আগেই মিউজিক এরিনাতে দারুণ পপুলার জায়গা করে নিয়েছে।
নারী শিল্পীরা গিটার হাতে খুব কম আমাদের দেশে। রক বা পপ গানে মেয়েদের ক্যারিয়ারও খুব বেশিদিন থাকে না। একটা সময়ে থেমে যায়। অনেকেই এর আগে মিউজিক ছেড়ে সংসারে থিতু হয়েছেন। লরা, কানিজ সুবর্ণাসহ অনেক উদাহরণ রয়েছে। আজ বিশ্ব নারী দিবস। এদিনে এ বিষয়ে আপনার প্রত্যয় বা প্রতিজ্ঞা কী? গানটাকে কতদিন ধরে রাখবেন বা পারবেন?
বিশ্বাস করুন আমিও অনেক বাঁধা পেয়েছি। পরিবারের সবাই চায় মেয়ে ভালো একটা চাকরি করুক। গিটার হাতে বা কাহন বাজিয়ে স্টেজে গাইবে এটা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়নি সবার। তবে মিউজিক ছেড়ে বিয়ে করতে রাজি নই আমি। কারণ ছেলেরা তো ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে বিয়ে করে না। শুধু মেয়েদেরই সব কেন জলাঞ্জলি দিতে হবে?