পাকিস্তান নিষিদ্ধ জঙ্গিসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। সরকার ১৮২টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এটিকে পাকিস্তান সরকারের সর্ববৃহত্ অভিযান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার অভিযানে সেইসকল মুসলিম সাহায্য সংস্থাকেও টার্গেট করা হয়েছে যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত বলে আসছে। জইশ-ই-মোহাম্মদসহ যেসব সংগঠন ভারতে হামলার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের কাশ্মিরে জইশ ই মোহাম্মদের হামলার কারণে পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুই দেশের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বিমানযুদ্ধ পর্যন্ত হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারতের ক্ষোভের কারণে নয়, জঙ্গিবিরোধী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ এই অভিযান। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮২টি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে প্রাদেশিক সরকারগুলো।
রক্ষণশীল মুসলিম দেশ পাকিস্তানের মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে প্রায়ই তরুণদের জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত করার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু পাকিস্তানের লাখ লাখ দরিদ্র শিশুর শিক্ষার একমাত্র অবলম্বন এই মাদ্রাসাগুলো। এছাড়া বেশকিছু দাতব্য প্রতিষ্ঠানের স্কুল হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। পাকিস্তানের শীর্ষ দাতব্যপ্রতিষ্ঠান জামাত-উত-দাওয়ার মুখপাত্র বলেছেন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়ে এবং ছাত্রছাত্রীদের বের করে দিয়ে সরকার কি বার্তা দিতে চাচ্ছে। ভারতের কাশ্মিরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাহায্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বের হওয়ার পর তিনটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।