জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, ৭ মার্চের সংক্ষিপ্ত ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ইতিহাস ও সমকালীন রাজনীতির বিশ্বস্ত ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। মৌখিক এই ভাষণ যারাই শুনেছেন, তারাই এর অসামান্য মর্ম উপলব্ধি করেছেন। সঙ্গত কারণেই এ ভাষণ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ৭ মার্চ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণের বার্ষিকীতে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অর্থনীতিবিদ ও লেখক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর বলিষ্ঠ প্রত্যয় আছে এ ভাষণের বাক্যগুলোর অন্তরে অন্তরে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ১৯৭১—এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তার স্বভাবসুলভ তাত্ক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়। এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন। তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে। ভাষণটির অসাধারণত্ব, এর স্বতঃস্ফূর্ততা, নির্ভীকতা, সম্যক উপলব্ধি ও তেজস্বী উচ্চারণ প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জনগণের প্রথমবারের মতো স্বাধীনতার চরম ও পরম আকাঙ্ক্ষাকে বাঙ্ময় করে তোলে।
হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ৭ মার্চ ১৯৭১ থেকে ৭ মার্চ ২০১৯—এই পরিক্রমায় বাঙালি জাতিসত্তা, ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি যে পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে তার মূলে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ঐতিহাসিক অবদান। অনন্তকাল ধরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ভাষণ বাংলার মানুষের সার্বিক মুক্তির সনদ এবং বিকাশের সূত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— ড. এম সাইদুজ্জামান, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, কথাশিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি কাজী রোজী, কবি রুবী রহমান, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, কবি কামাল চৌধুরী, কবি হারিসুল হক প্রমুখ।