অনেক বিতর্ক আলোচনা-সমালোচনা ও আন্দোলনের পরে আজ রোববার থেকে ধর্মনিরেপক্ষ সংবিধানের আলোকে যাত্রা শুরু করেছে নেপাল। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নেপালি প্রধানমন্ত্রী সুশিল কৈরালার গণমাধ্যম উপদেষ্টা প্রতীক প্রধান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নেপালি জনগণের অনেক দিনের সংগ্রামের ফসল এই সংবিধান। এতে নেপালি সমাজের সব অংশের আশা-আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়েছে। ২০০৬ সালে একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ১০ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানো মাওবাদি বিদ্রোহীরা নতুন সংবিধানের দাবিটি প্রথম সামনে নিয়ে আসে।
নতুন সংবিধান তৈরির জন্য পার্লামেন্ট গঠনের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দেশটির সাধারণ নির্বাচনে জয় পায় মাওবাদিরা। তাদের নেতৃত্বে দেশটির ২৪০ বছরের পুরনো রাজতান্ত্রিক শাসন বিলুপ্ত হয়। কিন্তু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র মতবিরোধে পার্লামেন্ট নতুন সংবিধান প্রণয়নে ব্যর্থ হয়। পরে ২০১৩ সালের নভেম্বরে ফের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত নতুন পার্লামেন্ট অবশেষে নতুন একটি সংবিধান প্রণয়ন করে, যা গত বুধবার রাতে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে প্রায় সর্বসম্মত সমর্থন পেয়ে অনুমোদিত হয়।
IMG0
তবে নেপালকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে রেখে দিতে চাওয়া কয়েকটি গোষ্ঠী সংবিধানটির বিরোধীতা করছে। এদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু কিছু নৃগোষ্ঠীও বৈষম্যের আশঙ্কায় নতুন সংবিধানের বিরোধীতা করছে। দক্ষিণ নেপালে থারু ও মাধেসি নৃগোষ্ঠীর লোকজন নতুন সংবিধানের বিরোধীতা করে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে, এতে সৃষ্ট সহিংসতায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে সান্ধ্য আইন জারি করেছে কর্তৃপক্ষ, কিন্তু বিক্ষোভের কারণে রাজধানীতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিবিসি