মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ

৪৮ বছরেও এতটুকু আবেদন কমেনি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের। কাকডাকা ভোর থেকে দেশের প্রতিটি অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় বেজেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ নির্ঘোষ ভাষণটি। শিহরণ জাগানিয়া এ ভাষণ শুনে দেশের মানুষ নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন দেশপ্রেমে, শপথ নিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে পরাভূত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুর সেই জগত্খ্যাত ভাষণকে স্মরণ করে ধানমন্ডিতে অবস্থিত তার প্রতিকৃতি ফুলে ফুলে ভরে যায়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সংরক্ষণে তাদের ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর, সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় গৌরবের অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের ৪৭তম বর্ষপূর্তি পালিত হলো। দিনের প্রথম প্রহর থেকে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে মাইকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর সেই অবিনাশী ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সকালে আগারগাঁও প্রধান কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এতে মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাত্পর্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরায় স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব ও তাত্পর্য’- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সকালে রোকেয়া হলের ৭ মার্চ ভবন চত্বরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু একাডেমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক ।