সামরিক শক্তিকে আরো বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধশালী করতে ভারত ইসরাইল থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করছে। দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান জঙ্গি দমনে নিজেরদের তৈরি ড্রোন ব্যবহারের সিদ্বান্ত নেয়ার কয়েক সপ্তাহ ব্যবধানেই ভারত এ ধরনের পরিকল্পনার কথা জানাল। দেশটির প্রতিরক্ষা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
এ ধরনের পরিকল্পনার প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটে তিন বছর আগে, যখন তারা ইসরাইল থেকে ‘হেরন’ নামের মনুষ্যবিহীন ড্রোন কেনার চিন্তা-ভাবনা করেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত জানুয়ারি মাসে দেশটির সামরিক বাহিনী সরকারের কাছে এসব ড্রোন দ্রুত আনার জন্য লিখিতভাবে জানায়।
সূত্র জানায়—পাকিস্তান ও চীন যেহেতু ড্রোন দিয়ে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাই ভারতও তার জবাবে নিজেদের অবস্থান সক্রিয় করতে ইসরাইল থেকে পাল্টা এসব ড্রোন কিনতে যাচ্ছে। যদিও ভারত এরই মধ্যে ইসরাইলের অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন ড্রোন (ইউএভি) কাশ্মীরের পর্বতাঞ্চলে তাদের পর্যবেক্ষণ বাড়াতে মোতায়েন করেছে। শুধু তাই নয়, চীনের সাথে তারা তাদের বিরোধপূর্ণ সীমানায়ও এই বিমানের ব্যবহার করছে।
চলতি মাসের প্রথম দিকে ভারত সরকার তাদের বিমান বাহিনীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেদেশের জন্য ইসরাইলি ১০টি হেরন টিপি কেনার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২ হাজার ৬২০ রুপি। মনুষ্যবিহীন এসব বিমান খুব সহজেই ভূমিতে তাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই এ ব্যাপারে একটা চুক্তি হবে। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস-বিরোধী তত্পরতা বন্ধে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে, পাহাড়ের গোপন স্থানে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এর বেশি ব্যবহার হবে।
নয়া দিল্লির ‘ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের সাবেক প্রধান গুর্মিত কানওয়াল বলেন, ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে হেরন প্রবেশ করতে যাচ্ছে, যা দেশটির বিমান বাহিনীর সক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দেবে।