জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের মনোনয়নে ও বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তার কার্যালয়ে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। দল- জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নেওয়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিকালে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে সুলতান মনসুরকে। একইসঙ্গে তাকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিকালে বহিষ্কার হয়ে সন্ধ্যার পর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন সুলতান মনসুর।
গণফোরামের প্যাডে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু গতকাল বিকালে সুলতান মনসুরকে দেওয়া চিঠিতে লিখেছেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে দলের নীতিবিরোধী, আদর্শবিরোধী, জনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে আপনার গণফোরামের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হলো এবং গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হলো। একইসাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’ চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘গণফোরাম এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনে করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে পদদলিত করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে আপনি নৈতিকতাবিরোধী, জনবিরোধী এবং সংসদীয় রীতি বিরোধী কাজ করেছেন।’
গতকাল বিকালে গণফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনেও সুলতান মনসুরকে দল থেকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন মন্টু। এক প্রশ্নের জবাবে মন্টু বলেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নির্দেশেই সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর গণফোরামের সদস্যফরম পূরণ করেই দলীয় সদস্যপদ নেন সুলতান মনসুর। মন্টু বলেন, সুলতান মনসুরের সংসদ সদস্য পদ চ্যালেঞ্জ করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে শপথ গ্রহণের পর সুলতান মনসুর সংসদ ভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার শপথ নেওয়ার বিষয়টি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার নলেজে আছে। আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ছিলাম। ঐক্যফ্রন্টের একজন নীতি নির্ধারক হিসেবে আমি ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করেছি।’ দল থেকে বহিষ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দল সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। স্পিকার ৭০ অনুচ্ছেদ মেনেই শপথ পাঠ করিয়েছেন। আমিও একজন সাবেক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা জানি।’