নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর সভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাউর রহমান সরকারের ছেলে আশিকুর রহমান সাম্য’র বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারের পিছন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই নারী আটজনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- পৌর এলাকা বটতলী গ্রামের তাজুল হোসেনের ছেলে হৃদয়, একই গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে সুজন, বর্ধনকুঠি গ্রামের আনারুল হোসেনের ছেলে আল আমীন, বটতলী সোনারপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন, ভাগদরিয়া গ্রামের শরিফুলের ছেলে রাকিবুল ইসলাম, নাচাইকোচাই গ্রামের আফছার আলীর ছেলে জাকির হোসেন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দহপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে শিমুল ও শিমুলের স্ত্রী রুনা বেগম।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, সাম্যের সহপাঠি শাহরিয়ার খান হৃদয় বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে তার বাড়ি শহরের ঘোষ পাড়া থেকে সাম্যকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাম্যের বাবা আতাউর রহমান ওইদিন সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। পুলিশ রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে আটক করে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য থেকে সাম্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহরিয়ার খান হৃদয় জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন নিয়ে সাম্যের সাথে তার ঝগড়া হয়। সেই ঘটনার জের ধরে সেদিন তাকে ডেকে তার বাড়ি নিয়ে গিয়ে কোমল পানির সাথে ঘুমের বড়ি খাওয়ায়। এরপর সে ঘুমিয়ে পড়লে হৃদয় ও জাকির মিলে তার হাত-পা বেঁধে গলায় রশি পেচিয়ে হত্যার পর লাশ ওই এলাকায় ফেলে রেখে আসে।
তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।