মানিলন্ডারিং বন্ধে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠাগুলোকে নতুন নির্দেশনা

 
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন অনুযায়ী এসব নির্দেশনা পালন করতে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারী করেকেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
 
প্রজ্ঞাপন  অনুযায়ী, প্রত্যেক মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক নিজস্ব নীতিমালা ও কর্মসূচি থাকতে হবে। আর ওই কর্মসূচি অবশ্যই পরিচালনা পর্ষদ বা মালিক বা স্বত্বাধিকারী কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। প্রত্যেক মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করবে এবং উক্ত পরিপালন কর্মকর্তার নাম, পদবি, যোগাযোগের ঠিকানা, ই-মেইল, টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর বিএফআইইউ বরাবরে সরবরাহ করবে। তিনি মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা এবং বিএফআইইউ এর নির্দেশনার পরিপালন নিশ্চিতকরণ করবেন এবং গ্রাহকদের সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যাবলী বিষয়ক প্রতিবেদন বিএফআইইউতে প্রেরণ করবেন।
 
মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান তার ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল স্থানীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি দৈনিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখবে। উক্ত রেজিস্টারের হিসাবের বাইরে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করবে না। লেনদেনের উদ্দেশ্যে আগত গ্রাহক ব্যতীত অন্য  কোনো ব্যক্তি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বৈদেশিক মুদ্রা সহকারে অবস্থান করবে না। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ব্যবসা কেন্দ্র ব্যতীত অন্য কোথাও মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত প্রত্যেক মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান তার ব্যবসা কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করবে এবং রেকর্ডকৃত ভিডিও কমপক্ষে সাত দিন সংরক্ষণ করতে হবে।
 
মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রহণকারী প্রত্যেক গ্রাহকের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি নির্দিষ্ট ফরমে সংগ্রহ করবে। তথ্য সংগ্রহ ছাড়া গ্রাহকের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন সম্পাদন করা যাবে না এবং প্রতিটি লেনদেনের তথ্য নির্দিষ্ট রেজিস্টার বা ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করবে। প্রতিটি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন রেজুলেশনের আওতায় সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়নে জড়িত সন্দেহে তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার সাথে কোনো প্রকার লেনদেন করবে না। এরূপ কোনো লেনদেন চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট মানিচেঞ্জার উক্ত লেনদেন ও গ্রাহক সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী কর্ম দিবসের মধ্যে বিএফআইইউকে অবহিত করবে।
 
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, প্রতিটি মানিচেঞ্জারের কর্মকর্তারা গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেনকালে সংগৃহীত তথ্য ও দলিলাদি পর্যালোচনা করবে এবং অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তকরণে সতর্ক ও সচেষ্ট থাকবেন। গ্রাহকের কোনো লেনদেন বা আচরণ অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক মর্মে প্রতীয়মান হলে তা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক পরিপালন কর্মকর্তা নির্দিষ্ট ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও দলিলাদিসহ বিএফআইইউ বরাবর প্রেরণ করবেন। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন বিএফআইইউ বরাবর প্রেরণের বিষয়ে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো পর্যায়েই গ্রাহক বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করবেন না এবং এমন কোনো আচরণ করবেন না যাতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক হিসাবের লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক হতে পারেন।
 
প্রতিটি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগের পূর্বে বা পরে নির্বাচিত প্রার্থীর পরিচিতির তথ্য, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টতা এবং এ সকল তথ্যের সমর্থিত দলিলাদি সংগ্রহ এবং যাচাই করবে, যাতে কোনো স্তরের কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান মানিলন্ডারিং বা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের ঝুঁকির সম্মুখীন না হয়। প্রত্যেক মানিচেঞ্জার তাদের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রশিক্ষণের রেকর্ড সংরক্ষণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।