ব্যাংকের অগ্রিম বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত (এডিআর বা আইডিআর) সমন্বয়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে সময় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এডিআর/আইডিআর নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন করে সময় বাড়ানোর কারণে পুঁজিবাজার ও বেসরকারি খাতের অর্থায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, আগামী ৩১ মার্চ অগ্রিম বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত (এডি/আইআরডি) সমন্বয়ের শেষ সময় ছিল। কিন্তু, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্দেশিত মাত্রাসীমায় ক্রমান্বয়ে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
গত বছর বেশকিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক বেঁধে দেওয়া এডিআর রেশিও লঙ্ঘন করে বেশি ঋণ দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর এডিআর রেশিও ৮৩ দশমিক ৫ থেকে ৮৫ শতাংশ ও ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য তাদের আয়-আমানত অনুপাত (আইডিআর) ৮৯ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকসূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১১টি ব্যাংকের এডিআর রেশিও নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি রয়েছে। এ ছাড়া এ অনুপাত বেড়ে যাওয়ায় বেশকিছু ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারছে না। আবার কিছু ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর করলেও তারল্য সংকটের কারণে তা বিতরণ করতে পারছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে নির্বাচন ইস্যু ও তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এ কারণে দ্বিতীয়ার্ধের ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমিয়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগযোগ্য আমানত রয়েছে ৮১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা। এ আমানতের অর্ধেকের বেশি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর হাতে।