বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ইলিশ ধরার অভিযোগে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা তিন হাজার এক শ পিস ইলিশসহ ভারতীয় পাঁচটি ট্রলার এবং ওই সব ট্রলারের ৬১ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে। সোমবার রাতে নৌ-বাহিনীর টহল জাহাজ বিএনএস কর্ণফুলি মংলা বন্দর থেকে প্রায় ৯০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে। এ সময় সঞ্জয় সামন্ত (৩৫) নামে আটক এক জেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে নৌ-বাহিনীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে মংলা থানা পুলিশ।
বুধবার দুপুরে নৌ-বাহিনী সঞ্জয় সামন্তের মৃতদেহ, ৬০ জন ভারতীয় জেলে ও পাঁচটি ট্রলার মংলা থানায় হস্তান্তর করেছে। এর আগে জেলা মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া ইলিশ মাছ বাগেরহাটের একটি হিমায়ীত চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় সংরক্ষণ করা হয়।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব ধরণের ইলিশ আহরণ, পরিবহণ ও বেঁচা-কেনা নিষিদ্ধ থাকায় উদ্ধার হওয়া ইলিশগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে মংলা থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য সঞ্জয় সীমান্তের মৃতদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কাকদ্বীপ এলাকার প্রফুল্ল চন্দ্র সামন্তের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
পুলিশ জানায়, আটক ভারতীয় মাছ ধরা ট্রলারগুলো হলো, এফবি লক্ষ্মীনারায়ণ, এফবি প্রদীপ, এফবি দক্ষিনেশ্বরী, এফবি সত্য নারায়ণ ও এফবি ত্রিপতি। এসব ট্রলারের জেলেদের বাড়ি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিভিন্ন এলাকায়।
মংলা থানার উপ-পরিদর্শক মঞ্জুর এলাহী বলেন, বাংলাদেশি জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাছ শিকারের অভিযোগে আটক পাঁচ ট্রলার ও ৬০ জন জেলেকে নৌ-বাহিনী মঙ্গলবার দুপুরে মংলা থানায় হস্তান্তর করেছে। এ সময় নৌবাহিনী জানায়, আটকের পর সঞ্জয় নামে ভারতীয় অপর এক জেলে টয়লেটে যাবার কথা বলে জাহাজের টয়লেটে ঢুকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।