কেরানীগঞ্জে স্ত্রী-পুত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিনজিরার বন্দনজরগঞ্জ এলাকায় স্ত্রী ও সত্ পুত্রকে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক পাষণ্ড। পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘাতক মো. এসাহাক ওরফে সুমনকে (৩০) আটক করেছে। নিহতরা হলেন সায়েরা বেগম (২৮) ও মো. ফয়সাল (১১)। গতকাল বুধবার ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ সময় বাবার বঁটির কোপে গুরুতর আহত হয় সত্ মেয়ে জান্নাতও (৫)। শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। ঘাতক এসাহাক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে স্ত্রীর পরকীয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

 
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এসাহাক ৩/৪ দিন আগে ওই এলাকার সাচ্চু মিয়ার বাড়িতে বাসা ভাড়া নেয়। গতকাল ভোরে সে তার কক্ষে ঠাণ্ডা মাথায় স্ত্রী সায়েরা ও পুত্র ফয়সালকে প্রথমে শ্বাস রোধ করে এবং পরে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় মেয়ে জান্নাতকেও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যাবার সময় স্থানীয় মনু বেপারীর ঢালে নাইট গার্ড ও চায়ের দোকানদার তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ  ঘাতক এসাহাককে সাথে নিয়ে তার ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে স্ত্রী ও পুত্রের লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়ে জান্নাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি  করে।
 
প্রতিবেশী ফজর আলী জানান, এসাহাক ঠাণ্ডা মাথায়  রান্নাঘরের  বঁটি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরো জানান, নিহত সায়েরা বেগম কিছু দিন পূর্বে ওমান থেকে দেশে ফিরে তার প্রথম স্বামীর সন্তান ফয়সাল ও জান্নাতকে সাথে নিয়ে এসাহাকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। গত ৩ অক্টোবর মনু বেপারীর ঢালের চায়ের দোকানদার জাহানারা বেগমের মাধ্যমে তারা স্থানীয় সাচ্চু মিয়ার বাড়ির একটি রুম ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেন।
 
বাড়ির মালিকের ছেলে মো. মাসুম জানান, এসাহাক কিছুদিন আগে তাদের বাসায় ওঠে। তবে কি কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে তা তারা কিছুই জানেন না।
 
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘাতক এসাহাক ওরফে সুমনের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার নোয়ার্দা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আমজাদ হাওলাদার। তার মেঝো ভাই আব্দুর রাজ্জাকের শালিকা নিহত সায়েরা বেগমের সাথে তার প্রেম ছিল। কিন্তু একটি অস্ত্র মামলায় এসাহাকের ১২ বছরের সাজা হয়। এ ফাঁকে সায়েরার অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় এবং ওই স্বামীর ঘরে ছেলে ফয়সাল ও মেয়ে জান্নাতের জন্ম হয়। পরে সায়েরা ওমানে চলে যায়। কয়েক বছর বিদেশে থাকার পরে সে আবার দেশে ফিরে আসে। কিছু দিন পূর্বে এসাহাক জেল থেকে বের হয়ে সায়েরা বেগমকে বিয়ে করে তার দুই সন্তানকে নিয়ে বন্দনজরগঞ্জে ওই বাসায় উঠে।
 

ওসি আরো জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘাতক এসাহাক স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তার স্ত্রী সায়েরা বেগমের হূদয় নামে অন্য এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া চলছিল। এ ঘটনা জানতে পেরে সে ক্ষিপ্ত হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।