গাংনীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক স্কুল ছাত্রী (১৩) কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গাঁড়াডোব গ্রামের পোড়াপাড়ার আবু বক্করের ছেলে ও মেহেরপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র বাবুল আক্তার (২০) কে র্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে আটক করেছে।
ধর্ষিতা বলে, 'প্রায় ৩ মাস যাবৎ গাড়াডোব গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে ও বাঁশবাড়িয়া বিজনেস অ্যাণ্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শুভ হোসেন প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে আমাকে পথে নানা ভাবে উত্যক্ত করতো। এছাড়া ভয়ভীতি দেখাতো। বুধবার দিবাগত রাত ৮ টার দিকে বাড়ির পিছনে টিউবওয়েলে পানি আনতে গেলে শুভ ও তার বন্ধু একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে সজল হোসেন, আনিছুর রহমানের ছেলে সাগর হোসেন, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সেলিম রেজা ও আটক বাবুল আক্তার আমার মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়।'
ধর্ষিতা জানায়, বাড়ির অদূরে ইয়াছিন আলীর ইটভাটার পাশে শুভ তাকে ধর্ষণ করে। তার বন্ধুরা গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে দু হাত, পা চেপে ধরে রাখে। ধর্ষণের সময় তারা ট্যাব ও মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে রাখে। চিৎকার করার চেষ্টা করলে তারা মারপিট করে ও হত্যার হুমকি দেয় বলে জানান ধর্ষিতা। পরে অচেতন হয়ে পড়লে ধর্ষকরা কিছুক্ষণ আটকে রেখে সুস্থ্ করে বাড়ির কাছে রেখে যায়।
ধর্ষিতার মা বলেন, 'মেয়েকে অনেক সময় ধরে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে গ্রামের লোকজন নিয়ে মাঠে নেমে পড়ি। পরে বাড়ির পাশে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করি।'
ধর্ষিতার কাছ থেকে ঘটনা শুনে র্যাব-৬ গাংনী ক্যাম্পে খবর দিলে র্যাবের একটি দল বাবুল আক্তারকে অভিযান চালিয়ে আটক করে গাংনী থানায় সোপর্দ করে।
গাংনী থানার সেকেন্ড অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, ধর্ষিতাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেয়া হয়েছে। ধর্ষিতার কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হবে। এছাড়া একটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।