২০১২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ পরাজয়ের দুঃসহ স্মৃতি থেকে এখনো তাড়া করে বেড়ায় ইংল্যান্ডকে। তিন বছর পরে আবারো এই দুই দল তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে।
আগামী ১৩ অক্টোবর আবু ধাবিতে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে। কিন্তু অতীত ভুলে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলাই এই সিরিজের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ পল ফারব্রেস। তার বিশ্বাস এবারের সিরিজে ইংল্যান্ডের জয়ের সব সম্ভাবনাই রয়েছে।
তিন বছর আগে ইংল্যান্ডের পরাজয়ের স্মৃতি মনে করে ফারব্রেস বলেন, আমরা এখানে বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় নিয়ে এসেছি যাদের এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত সিরিজটি জেতার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে হারের অনুভূতি এখনো আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু সেটা এখন অতীত ইতিহাস। আমি বিশ্বাস করি এবারের দলটির জেতার দারুন সুযোগ রয়েছে। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতেই আমরা মাঠে নামবো। ফারব্রেস অবশ্য বলেছেন তার দল কঠিন এই কাজটির গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝতে পারছে। এ্যাশেজ সিরিজ শেষ হবার পরপরই এ ব্যপারে সতর্ক করে দিয়ে ইংলিশ সহকারী কোচ বলেছিলেন সম্ভবত এটাই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে কঠিন সিরিজ। আরব আমিরাতের উইকেটে পাকিস্তান যথারীতি তাদের স্পিন অস্ত্র নিয়েই লড়াইয়ে নামবে যা তারা আগেও করেছিল। আগের সিরিজে সাইদ আজমল ২৪টি ও বাঁহাতি আব্দুল রেহমান নিয়েছিলেন ১৯ উইকেট। বর্তমানে দলে রয়েছে লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ ও বাঁহাতি জুলফিকার বাবর।
ইংল্যান্ড আগস্টে এ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত করে সিরিজ জয় করে। ২০০৯ সালে পাকিস্তানে শ্রীলংকা দলকে বহনকারী বাসে সন্ত্রাসী হামলার সময় ফারব্রেস লংকান দলের সহকারী কোচ ছিলেন। ঐ আক্রমনের পর থেকেই পাকিস্তানে কোন ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইসিসি। তারপর থেকেই নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানের সব হোম সিরিজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ফারব্রেস মনে করেন আসন্ন টেস্ট সিরিজে কোন সুযোগ হারালে চলবে না। মঙ্গলবার পাকিস্তান এ’ দলের বিপক্ষে শারজায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের অনুশীলন ম্যাচটি ড্র হয়েছে। ঐ ম্যাচটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ফারব্রেস বলেন, বল হাতে আমরা সফল ছিলাম। এই বিষয়টি নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি যে টেস্টে জিততে হলে ২০টি সুযোগই কাজে লাগাতে হবে। এ্যাশেজ সিরিজেও এই পরিকল্পনা কাজে লেগেছিল। আগামী কয়েকদিন এই বিষয়টি নিয়েই কাজ করতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খেলোয়াড়রা বেশ দ্রুত কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়েছে। বাসস