পর্যটন মওসুমের শুরুতেই মুখরিত সিলেট

পর্যটকদের মন কাড়তে প্রকৃতি কন্যা সিলেটের যেন জুড়ি নেই। এখানকার হাওর-বাঁওড়, সবুজ চা বাগান, পাথরের পাহাড় আর ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি মনকে যেনো ধুয়ে-মুছে নতুন স্বপ্নে রাঙিয়ে দেয়। পর্যটন মওসুমের শুরুতেই তাই মুখরিত হয়ে উঠছে সিলেটের বিখ্যাত পর্যটন স্পটগুলো। দেশের নানা প্রান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ এমনকি বিদেশিরাও সিলেটে ছুটে আসতে শুরু করেছেন। এখনই ছুটির দিনগুলোতে পর্যটন স্পটে প্রকৃতিপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় লেগেছে। যদিও সমপ্রতি দেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার জেরে পর্যটন খাতে নিরাপত্তা ইস্যু কিছুটা শঙ্কা জাগাচ্ছে। তবে শঙ্কার এই কালো মেঘ দ্রুতই মিলিয়ে যাবে বলে মনে করেন প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। সিলেটের প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করছে।

 
সিলেটের জাফলং, লালাখাল, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, হাকালুকির হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, শ্রীমঙ্গলসহ পুরো সিলেটের বিস্তীর্ণ চা বাগান, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, উতমাছড়ার পাথররাজ্যসহ প্রকৃতির অপরূপ সব সৌন্দর্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সিলেটে।    এখানে আছে ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহঃ), হযরত শাহপরানসহ (রহঃ) অনেক ওলি-আউলিয়ার মাজার। আছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরও বিখ্যাত তীর্থস্থান। ফলে সিলেটে সারাবছরই বিশেষ করে পর্যটন মওসুমে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। পর্যটকদের জন্যই সিলেটজুড়ে গড়ে উঠেছে উন্নতমানের বেশকিছু হোটেল, মোটেল, রেস্টহাউজ, রিসোর্ট প্রভৃতি। একদিকে যেমন সিলেটের পর্যটন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে, অন্যদিকে এই শিল্পকে ঘিরে সিলেটে দ্রুতই সমপ্রসারিত হচ্ছে বিপুল ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান। ফলে সরকারও সিলেটের পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করতে নানা উদ্যোগ-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
 
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুইটি মওসুম দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিলেটের পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এবার মওসুমের শুরুতেই দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। অবশ্য সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, এ ঘটনা তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। সাময়িক যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুতই কেটে যাবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকে জমজমাট হবে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
 
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। শীত মওসুমে তারা সপরিবারে দেশে বেড়াতে আসেন। তারা ছুটে যান পর্যটন স্পটগুলোতেও। এবারও সিলেটী বংশোদ্ভূত এই বিদেশিরা ব্যাপকহারে দেশে আসবেন বলে আশা করছেন সিলেটের পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তবে সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
এ ব্যাপারে সিলেট হোটেল রেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সেক্রেটারি ও নির্ভানা ইন হোটেলের মালিক তাহমিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, সামগ্রিকভাবে সিলেটের নিরাপত্তা বেশ সন্তোষজনক। পর্যটক কিংবা বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছি। এ ব্যাপারে প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক। সিলেটে এসে বিদেশি নাগরিক কিংবা কোনো পর্যটক হোটেল-রেস্ট হাউজে উঠলে আমরা সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করছি। পর্যটকরা বাইরে বের হলে তাদের গন্তব্য জেনে নিয়ে তাও পুলিশকে জানাচ্ছি। পুলিশ নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
 
সিলেটে পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন সরাসরি মনিটরিং করছে। এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিন বলেন, বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলেটের পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন নিরাপত্তার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছে।