স্পোর্টস রিপোর্টার
গত বছরের শেষ দিকে বিসিএলে ডান হাতের কব্জিতে ব্যথা পেয়েছিলেন। ব্যথা নিয়েই বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন জহুরুল ইসলাম অমি। তাতে চোটের মাত্রা আরো বেড়েছে। মাঝপথে বিপিএল ছেড়ে ২৬ দিন বিশ্রামে ছিলেন। চোট পুরোপুরি না সারলেও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ দিয়ে গতকাল আবার মাঠে ফিরলেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। লিগের প্রথম দিনে চোটাক্রান্ত জহুরুলের কাঁধেই ভর করেছিল আবাহনী।
প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা বিকেএসপির বোলাররা কাঁপিয়ে দিয়েছিল গত আসরের চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং লাইন। মিরপুর স্টেডিয়ামে বিপর্যয়ের মুখ থেকে সেঞ্চুরি করে আবাহনীকে টেনে তুলেছেন জহুরুলই। গতকাল তার সেঞ্চুরিতেই জয় দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল আবাহনী। মিরপুরে বিকেএসপিকে ৬০ রানে পরাজিত করেছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দল।
প্রথমে ব্যাট করে নয় উইকেটে ২১৬ রানের পুঁজি গড়ে আবাহনী। জবাবে ৪০.৫ ওভারে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় বিকেএসপি। সেঞ্চুরিয়ান জহুরুল ইসলাম ম্যাচ সেরা হন।
মিরপুর স্টেডিয়ামের উইকেট দিনের শুরুতে সবসময়ই ব্যাটসম্যানদের জন্য ভয়ঙ্কর। বিকেএসপির তরুণরা উইকেটের ব্যবহারটা করেছে ভালোভাবে। ৫৩ রানেই আবাহনীর চার ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠায় এসব যুবা ক্রিকেটাররা। লঙ্কান কুশল সিলভা (৭), নাজমুল শান্ত (০), মোসাদ্দেক হোসেন (১৩), সাব্বির (২) দ্রুত ফিরে যান। পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন জহুরুল-সাইফউদ্দিন। তারা ১১২ রানের জুটি গড়েন।
তাদের জুটি ভাঙার পর আবারও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে আবাহনী। তবে জহুরুল একপ্রান্ত আগলে থাকায় দুইশ পেরিয়েছে দলটির স্কোর। সাইফউদ্দিন ৫৫ রান করে আউট হন। ১৩২ বলে লিস্ট-এ ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জহুরুল। হাতে ব্যথা নিয়ে খেলেছেন। ৯০’র ঘরে গিয়ে পায়ে ক্র্যাম্প করেছিল। সবকিছু ছাপিয়ে দলের জন্য লড়ে গেছেন তিনি। তার ১৪৭ বলে অপরাজিত ১২১ রানই (১৩ চার, ১ ছয়) ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। বিকেএসপির আবু নাসের তিনটি, হাসান মুরাদ দুটি করে উইকেট পান।
পায়ের পেশীতে টান পড়াটা খুব চাপ তৈরি করেনি জহুরুলের উপর। তবে হাতের ব্যথা নিয়ে খেলাটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল জানিয়ে গতকাল ম্যাচ শেষে ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘অবশ্যই আমার এখনও কিছু ঘাটতি আছে ব্যাটিংয়ে। ব্যথাটা এখনও পুরোপুরি সারেনি। চেষ্টা করছি, ফিজিওরাও আমাকে অনেক সাহায্য করছে। মাত্র ১১ দিন আগে স্লিং ঝুলানো ছিল হাতে, সেটি খুলেছি। আল্লাহর রহমতে ভালোই রিকোভারি হচ্ছে। আমার এই হাত নিয়ে শট খেলা সম্ভব ছিল না। আর দলের অবস্থা সেটাই ডিমান্ড করছিল।’
আবাহনীর শক্তিশালী বোলিং লাইনের সামনে সুবিধা করতে পারেনি বিকেএসপি। অধিনায়ক আব্দুল কাইয়ুম অপরাজিত ৩৮, রাতুল খান ৩৭, শামীম হোসেন ১৮, আবু নাসের ১২, সুমন খান ১০ রান করেন। আবাহনীর নাজমুল অপু তিনটি, সানজামুল দুটি করে উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী: ৫০ ওভারে ২১৬/৯ (জহুরুল ১২১*, সাইফউদ্দিন ৫৫, মোসাদ্দেক ১৩; আবু নাসের ৩/৩৯, হাসান মুরাদ ২/৫৪, নওশাদ ইকবাল ১/২৯,
সুমন খান ১/৪৯)
বিকেএসপি: ৪০.৫ ওভারে ১৫৬ (আব্দুল কাইয়ুম ৩৮*, রাতুল খান ৩৭, শামীম হোসেন ১৮, আবু নাসের ১২, সুমন খান ১০; নাজমুল অপু ৩/৩০, সানজামুল ২/৪১, সাব্বির রহমান ১/৩, সাইফউদ্দিন ১/১২, আরিফুল হাসান ১/১৭, রুবেল ১/২০, মোসাদ্দেক ১/২৮)
ফল: আবাহনী ৬০ রানে জয়ী