বাদী আলম হাওলাদারের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে খুলনায় পৈশাচিক নির্যাতনে নিহত শিশু রাকিব হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আদালত দুটি পর্যায়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনের সাক্ষ্য নেয়।
রবিবার দুপুরে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক (অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) দিলরুবা সুলতানার আদালত এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। একই আদালতে সোমবারও সাক্ষ্য গ্রহণ চলবে।
সাক্ষ্যগ্রহণকালে মামলার আসামি শরীফ, তার কথিত চাচা মিন্টু খান ও মা বিউটি বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারীরা হলেন, পুলিশ কনস্টেবল বদরুল আলম, মাকসুদুল হক, এসআই জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সাক্ষী জাহিদুল ইসলাম, মিজান হাওলাদার ও খোকন শেখ।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সুলতানা রহমান শিল্পী রাকিবের বাবা ও মামলার বাদী আলম হাওলাদের সাক্ষ্যের বরাত দিয়ে বলেন, ‘বাদী মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে তার পুত্রের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন তুলে ধরেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতা আলম হাওলাদার আদালতে সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার চান।’
উল্লেখ্য, নিজের গ্যারেজের কাজ ছেড়ে অন্যত্র কাজ নেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩ অগাস্ট সন্ধ্যায় শরীফ মোটর্স গ্যারেজের মালিক ওমর শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টু দোকানের ভেতর নিয়ে শিশু রাকিবের পায়ুপথে মোটরসাইকেলের চাকায় হাওয়া দেয়ার মেশিন দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। এতে রাকিব মারা যায়।
এ ঘটনায় রাকিবের বাবা আলম হাওলাদার তিনজনকে আসামি করে পরদিন মো. শরীফ ও সহযোগী মো. মিন্টু খান ও শরীফের মা বিউটি বেগমের নামে হত্যা মামলা করেন। রাকিবের মৃত্যুর খবর পেয়ে ওইদিন রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিক্ষুব্ধ জনতা শরীফ ও মিন্টুকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ শরীফের মাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার তিনজনই হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।