পুঁজিবাজারের বড় দরপতন, উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা

 
সপ্তাহের শুরুতেই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক কমেছে ৫৩ পয়েন্ট। একই সঙ্গে লেনদেন কমে সাড়ে ৩৫০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। এদিকে গত তিন কর্মদিবস ধরেই বাজারে দরপতন চলছে। এ সময়ে সূচক কমেছে ১০৫ পয়েন্ট। ডিএসইর সার্বিক মূল্য সূচক ও ডিএস ৩০ সূচকে যে পতন হয়েছে তা গত জুনের পর সর্বোচ্চ। এভাবে বড় দরপতন ও লেনদেন অনেক কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।
 
বাজারে দরপতনের ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল জীবন বিমা খাত। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর প্রায় ২ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে।
 
বাজারে দরপতনের ব্যাপারে আইডিএলসির দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা প্যানিক সৃষ্টি হওয়ায় শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেশি ছিল। বিশেষ করে দেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে টিপিপি চুক্তির নেতিবাচক প্রভাবে রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদেরকে প্রভাবিত করেছে।
 
বিনিয়োগকারীরা বলছেন—বাজারে বড় দরপতনের ফলে বিনিয়োগ হারাতে হচ্ছে। তার ওপর লেনদেন কমে যাওয়ায় কিছুটা শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
 
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন—বাজারে দরপতন একটি স্বাভাবিক নিয়ম। তবে হঠাত্ করে বড় ধরনের দরপতন কাম্য নয়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের উদ্বিগ্ন ও চিন্তাগ্রস্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
 
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন—বাজারে বিনিয়োগের সময় ভালো কোম্পানি দেখে বিনিয়োগ করা দরকার। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), প্রাইস আর্নিং রেশিও (পিই) এবং নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) বিবেচনা করে বিনিয়োগ করা হলে কোনো ভয় থাকার কথা নয়। এ ছাড়া, বাজারে এখন সূচক যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে কিছুটা বাড়া-কমা দেখেই উদ্বিগ্ন হওয়া ঠিক নয়।
 
তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন—কোম্পানির মৌল ভিত্তি বিবেচনা করে বিনিয়োগ করলেও অনেক সময় ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। কিছু কোম্পানির শেয়ারদর তুলনামূলক অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। আবার কিছু কোম্পানির শেয়ারদর তুলনামূলক অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে।