বিদ্যুিবচ্ছিন্নে অন্ধকারে ভেনিজুয়েলা বিরোধীদের ‘নাশকতা’ বলল সরকার

ভেনিজুয়েলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় দেশটির অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এটাকে ‘নাশকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধীদের দায়ী করেছে ও নিন্দা জানিয়েছে।

সন্ধ্যা নামার অল্প সময় আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ৪টা ৫০ মিনিটে দেশটির বহু জায়গায় বিদ্যুত্ চলে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এভাবে বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় দেশের অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ২৩টির মধ্যে ১৮টি রাজ্যের বাসিন্দাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারেই রাত কাটাতে হয়। এ সময় জেনারেটরের সাহায্যে সরবরাহ করে কিছু ভবনে বিদ্যুত্ দেয়া হলেও, রাজধানী কারাকাস পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।  এতে টেলিফোন ও ইন্টারনেটের পাশাপাশি সিটি মেট্রোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল পিতাজোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বলিভার রাজ্যে সাইমন বলিভার পানি-বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। সরকারের দাবি, বিরোধীদল ওই কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মাদুরো সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ওই কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, এটা সরকারের ওপর হামলা নয়, বরং এটা জনগণের ওপর হামলা।

রাষ্ট্রীয় বিদ্যুত্ কোম্পানি কর্পোয়িলিস টুইটারে এক বার্তায় জানায়, ‘তারা নাশকতার শিকার হয়েছে। এটি হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্যুত্-যুদ্ধের একটি অংশ। আমরা এটি মেনে নিতে পারি না। আমরা বিদ্যুত্ সেবা ফের চালু করতে কাজ করছি।’ ভেনিজুয়েলায় বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনা প্রায় ঘটে থাকে। দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার ক্ষেত্রে এটিও একটি কারণ।

এদিকে ভেনিজুয়েলা থেকে জার্মানির রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করার পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার জন্য ইউরোপকে আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। জার্মানির দার স্পিগেল পত্রিকায় বৃহস্পতিবার গুইদো বলেন, ‘কারাকাস জার্মান রাষ্ট্রদূত ডেনিয়েল ক্রিনারকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে জার্মানির বিরুদ্ধে হুমকির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ ক্রিনার ও অন্যান্য কূটনীতিকরা এ সপ্তাহে গুইদোকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন। এর জেরেই মাদুরো সরকার ক্রিনারকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দার স্পিগেল পত্রিকাকে গুইদো বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে এ মারাত্মক হুমকির জবাবে ইউরোপ কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটিই আমি আশা করি। সর্বপোরি, তাদের উচিত মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা।’ ভেনিজুয়েলায় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা গুইদোর সরকার গঠনের পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে আছে জার্মানিও।