ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দু'দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে নুরুল আমিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে উপজেলার বগইর ও খড়িয়ালা গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরুল আমিন বগইর গ্রামের মন্নর আলী মিয়ার ছেলে।
আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালসহ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
IMG0
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, এক সপ্তাহ আগে বগইর গ্রামের নাহরিন নামের এক নারী পার্শবর্তী খড়িয়ালা গ্রামের আবু তালেব মেম্বার এর কাছে পাওনা টাকা নিতে যায়। তখন তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে ওই নারী বাড়িতে এসে তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। এ নিয়ে সোমবার বিকেলে বগইর এলাকার লোকজনের সঙ্গে খড়িয়ালার লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে আজ সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছে। এ সময় টেটাবিদ্ধ অবস্থায় নুরুল আমিনকে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
IMG1
সংঘর্ষের সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে মহাসড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পরে সকাল ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতের লাশ উদ্বার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।