চাই নারীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

ফাতিমা আক্তার

গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পুরো বিশ্ব আজ নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নারীদের অবস্থান প্রশংসনীয়। সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা জয় করে আপন মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পেরেছে এরকম নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা উপযুক্ত সম্মান ও কাজ করার ক্ষেত্র পাচ্ছে, নারীদের প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন আইন রয়েছে। আবার অপরদিকে বাস্তবতা যা বলে তা হলো অনেক নারীই বিরাজমান আইনের আশ্রয় পাচ্ছে না ঠিকমতো এবং যার ফলে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্নভাবে নারীদের প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উদ্বেগজনকহারে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট ৩ হাজার ৯১৮ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৯৪২টি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৮২ জন ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী এখনও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারী বিভিন্ন সমালোচনারও সম্মুখীন হয়ে থাকে। ২০১৯ সালে এসেও নারীরা প্রকাশ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ তাদের প্রয়োজনীয় বস্ত্র ও দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় বা বহন করলে সমালোচনার মুখোমুখি হয়। আবার দেখুন প্যান্টি লাইনার প্যাড, আল্ট্রা-থিন প্যাড, রেগুলার প্যাড, সুপারপ্যাড, ওভারনাইট প্যাড, ম্যাটারনাল প্যাড; প্রতিটি ক্যাটাগরির স্যানিটারি ন্যাপকিন আমাদের এখানে ১০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয় যা ব্যয়সাধ্য এবং অনেক নারীই এর ব্যয় বহন করতে পারে না।

অতএব, নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সরকারের উচিত আরো মনোযোগী হওয়া। সরকারিভাবে সুলভমূল্যে প্যাড বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। সবশেষে এটুকু বলতে চাই, বৈষম্য ও সকল ধরনের নির্যাতনের অবসান হোক, সচেতনতা এবং মূল্যবোধের চর্চা শুরু হোক আমি-আপনিসহ প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে। নারী-পুরুষ সমতার, নতুন বিশ্ব গড়ো” সফল করতে আমরা সবাই এগিয়ে আসি। অনুপ্রেরণাস্বরূপ নারীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে সকল নারীই আপন মহিমায় জ্বলে উঠুক, নারী নিজের মর্যাদা ও অধিকারের ব্যাপারে সত্যিকারভাবেই সচেতন হয়ে উঠুক।

n  লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়