দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ শুষ্ক মৌসুম হলো পর্যটকদের বেড়ানোর অন্যতম সময়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। দেশের উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আবাসিক হোটেল কটেজ, রেষ্টহাউজগুলো ছয়-সাত মাস আগে থেকে বুক্ট হয়ে আছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে পর্যটকদের দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে বেড়াতে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের বেড়ানোর আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন স্পটগুলোতে প্রচন্ড ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান তাদের ব্যবসা বেশ ভালো যাচ্ছে। পর্যটন করপোরেশনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম র্পাবত্য চট্টগ্রাম কক্সবাজার, টেকনাফসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবারের শীতের মৌসুমে পর্যটকদের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোর আবাসিক হোটেল এবং খাবারের হোটেলগুলো তাদের গেষ্টদের সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে। কক্সবাজার হোটেল ও মোটেল মালিক সমিতির তথ্যমতে বর্তমানে কক্সবাজারে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক অবস্থান করছেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে আড়াই লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসছেন। কক্সবাজার, হিমছড়ি, ইনানী, সেন্টমার্টিন ও সাফারী পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের কোনো হোটেলে সিট খালি নেই। অপরদিকে খাগড়াছড়ি শহরের হোটেলগুলোর একই অবস্থা। গত দেড় মাস ধরে এখানকার আবাসিক হোটেলগুলোর সিট খালি থাকছে না। রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই এর পর্যটন স্পটে অবস্থিত হোটেল কটেজগুলো পর্যটকদের ভিড়ে ভরপুর হয়ে আছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, দেশের পর্যটন খাতে সর্বোচ্চ ব্যবসা হচ্ছে চলতি মৌসুমে। ২০১২-২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশের পর্যটন শিল্পের চরম খারাপ অবস্থা ছিল। বিশেষ করে ২০১৪-২০১৫ এই খাতের ব্যবসা নেমে ছিল শূন্যের কোটায়। তারপর ২০১৬ সাল থেকে পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হতে থাকে।
২০১৭ সালে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকার কারণে এবারের শীতের মৌসুমে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্যমতে, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় গত ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছে। গত ৭ ডিসেম্বর একদিনে ঢাকা রেলস্টেশনে প্রায় ১ কোটি টাকার টিকেট বিক্রি হয়েছে। যা ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা ছাড়া যে-কোনো সময়ের চেয়ে রেলের সর্বোচ্চ আয়। রেল ছাড়া বাসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। গত নভেম্বর মাস থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বাসের টিকেট আগে থেকেই বুকিং দিতে হচ্ছে। দেশে অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় সেগুলোতেও পর্যটকদের আগমনে বেশ রমরমা হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে বলে জানা যায়। দেশের পর্যটন শিল্পের একধরনের অনুকূল অবস্থা দেখে পর্যটন শিল্প আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। সরকার দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সরকারের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটকরা লাভবান হবেন।
n লেখক:বীমা কর্মকর্তা