জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর গণরুমের তিন হাজার ভোট

g আবদুল হাকিম আবির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের শেষ দিনের প্রচারণা আজ। শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব নিকাশ আর প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীরা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন প্রার্থীরা। সব প্রার্থীই মনে করছেন গণরুমের শিক্ষার্থীরা তাদেরকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বলছে গণরুমের শিক্ষার্থীরা সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তাই তারা ছাত্রলীগকেই ভোট দিবে। অপরদিকে ছাত্রদল, বামজোট আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গণরুমের শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে ছাত্রলীগ। এছাড়া গেস্টরুমের নামে বিভিন্ন হয়রানির কারণেও গণরুমের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের প্যানেলকে ভোট দিবে না বলে দাবি করছেন অন্য সংগঠনের প্রার্থীরা।

ইত্তেফাকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলগুলো বাদে প্রায় প্রতিটি হলে ছয় থেকে দশটি করে মোট ৭০টি গণরুম আছে। এসব গণরুমের প্রতিটিতে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করে। সব মিলিয়ে গণরুমে থাকে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী যার সকলেই আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের ভোটার। ডাকসু নির্বাচনের অতীতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভিপি-জিএস পদে একজন প্রার্থী ছয় থেকে দশ হাজার ভোট পেলেই বিজয়ী হয়ে থাকেন। এছাড়া অন্যান্য পদে বিজয়ী হতে চার থেকে ছয় হাজার ভোটই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে গণরুমে থাকা তিন হাজার শিক্ষার্থীই যেহেতু ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সেহেতু তাদের ভোটই নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

ছাত্রলীগের প্রার্থীদের দাবি, গণরুমে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং সকলেই ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, গণরুম ছাত্রলীগের তৈরি কোনো কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই হলের আবাসন সঙ্কটের কারণে কিছু গণরুম তৈরি হয়েছে। এসব গণরুমের শিক্ষার্থীসহ হলে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীই ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়যুক্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া জোরপূর্বক রাজনৈতিক প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীই রাজনীতি সচেতন এবং তারা প্রত্যেকেই নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী রাজনীতি করে। এখানে কাউকে জোর করে প্রোগ্রামে নেওয়ার কিছু নেই।

এ বিষয়ে ছাত্রদল, বামজোট আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, গণরুমে থাকা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে হয়। এজন্য তারা যে ছাত্রলীগকেই ভোট দিবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, দেশের একটা সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণরুমে থাকতে হবে এটা কাম্য নয়। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য যারা এই গণরুম প্রথা রেখেছে আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে গণরুমের শিক্ষার্থীরা ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দিবে।

অপরদিকে গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিকে ধারণ করেন তাই তারা ছাত্রলীগকেই ভোট দিবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের শাসনাধীন গত দশ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রাণহানি ঘটেনি উল্লেখ করে তারা এর এটিকে ছাত্রলীগের কৃতিত্ব বলছেন। আরেকটি পক্ষ বলছে যারা গণরুম প্রথাকে বিলোপ করে প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করবে তাদেরকেই তারা ভোট দিবেন। তারা বলছেন ছাত্রলীগ নেতারা হলের সিটগুলো দখল করে রাখে এবং যারা রাজনৈতিক কর্মী শুধুমাত্র তাদেরকেই ভালো সিটে শিফট করে। এর বাইরে অছাত্র এবং বহিরাগতরাও ছাত্রলীগের পরিচয়ে হলে সিট দখল করে রাখে অভিযোগ করেন তারা। এজন্য তারা ছাত্রলীগের প্যানেলের বাইরে ভোট দিতে চান।