আরাম-আয়েশেই আছেন এমপি লিটন

 
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন গাইবান্ধা জেলা কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় বেশ আরাম-আয়েশেই আছেন। তার কক্ষে একটি খাট, টেলিভিশন ও চেয়ার-টেবিল ছাড়াও প্রতিদিন একটি দৈনিক পত্রিকা দেয়া হচ্ছে। তার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে একজন কর্মচারী।
 
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শিশু সৌরভকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা ও একটি বাড়ি ভাঙচুর এবং লুটের ঘটনায় দায়ের হওয়া দু’টি মামলায় এমপি লিটনকে গত বুধবার ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলি আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর থেকেই তিনি কারাগারে। আদালত আগামী ৮ ডিসেম্বর সৌরভ হত্যা চেষ্টা মামলা এবং ১৪ ডিসেম্বর হাফিজার রহমানের বাড়ি ভাঙচুর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
 
শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কারাগার এলাকায় দেখে লিটনের খবর জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, এমপি লিটন কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় অবস্থান করছেন এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
 
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের সুপার মো. মাহবুব আলম জানান, গত ১৫ অক্টোবর আনুমানিক বেলা একটার দিকে লিটনকে কারাগারে নিয়ে আসা হয়। তাকে জেলকোড অনুযায়ী সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার রুমে একটি খাট ও চেয়ার-টেবিল দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন একটি দৈনিক পত্রিকাও দেয়া হচ্ছে। খাবার পাচ্ছেন কারাবিধি অনুযায়ী। এছাড়াও তার জন্য একজন সেবক নিযোগ করা হয়েছে।
 
লিটনের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটোর ধারা জামিনযোগ্য। এই কারণে আমরা তার জামিনের ব্যাপারে আশাবাদী। তাই আবারো একই আদালতে (গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলি আদালত) রবিবার তার জামিন আবেদন করা হবে।
 

তিনি আরো বলেন, আইনে কোনো বাধা না থাকলেও স্থানীয়ভাবে গাইবান্ধা জেলা বিচারিক আদালতে দীর্ঘদিন থেকে একটি প্রথা প্রচলিত আছে যে, প্রথম জামিন না মঞ্জুর হওয়ার সাতদিন পর পুনরায় একই আদালতে জামিন আবেদন করা হয়। তাই বিষয়টি নিয়ে রবিবার বারের সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করে জামিন আবেদন করা হতে পারে। যদি সেটা সম্ভব না হয়। সেক্ষেত্রে সাতদিন পর আবেদন করা হবে।