বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসন

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ঘুম হারাম

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তে নিজ নিজ দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য লবিং তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মমতাজউদ্দিন নাকি বর্তমান সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা জাসদের সভাপতি একেএম রেজাউল করিম তানসেন? অন্যদিকে কে হচ্ছেন ধানে শীষের কাণ্ডারি? সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা না ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল নাকি আসছেন নতুন মুখ। নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলার সর্বত্র এখন চলছে এই আলোচনা।

১৪ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম রেজাউল করিম তানসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। যা বর্তমানে দৃশ্যমান। যা বিগত ৪০ বছরে সম্ভব হয়নি তা আমি করেছি। তাই আমি এবারও ১৪ দলের মনোনয়ন পাবো বলে আশা করছি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মমতাজউদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক আহছানুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী, অ্যাডভোকেট হেলালুর রহমান, কামালউদ্দিন কবিরাজ, রেজাউল হক ও অধ্যাপক জাহিদুর রহমান। 

বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, গত নির্বাচনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মমতাজউদ্দিন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকার জনগণের সঙ্গে থেকে জনসভা ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আসছেন। আশাকরি দল তাকে মূল্যায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, মমতাজউদ্দিনকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হলে বগুড়া-৪ আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবে জনগণ।  নন্দীগ্রাম-কাহালু এলাকার জনগণ মমতাজউদ্দিনকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়।

অপরদিকে বিএনপিতেও চলছে মনোনয়নযুদ্ধ। সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা ও ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল তো রয়েছেনই। এছাড়া কেন্দ্রীয় জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন, বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রাফি পান্না, বগুড়া জেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাবেক ছাত্র নেতা অ্যাডভোকেট গোলাম আকতার জাকির, বগুড়া জেলা যুবদলের সদস্য এমএ রাজ্জাক সুমনও মনোনয়নের দাবিদার। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপির ক্রান্তিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণসহ নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছি। বর্তমানেও দলীয় সকল কর্মসূচি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পালন করে আসছি। তাই বিএনপির ক্রান্তিকালকে মূল্যায়ন করলে অবশ্যই আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।             

মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা বলেন, বিএনপির ক্রান্তিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হয়েছি। একাধিকবার কারাগারে গিয়েছি। তবুও এলাকা ছাড়া হইনি। নির্যাতিত ও হামলা মামলার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম এখনও আছি। তাই আমি মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। অ্যাডভোকেট রাফি পান্না বলেন, ক্রান্তিকালে এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছি। তাই আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। বড় দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ছাড়াও এমপি পদে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য গণসংযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির হাজি নুরুল আমিন বাচ্চু ও হিরো আলম।