পূজা উত্সবের ৬ পদ

 
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে অন্যতম বড় উত্সব দুর্গাপূজা। এই উত্সবকে কেন্দ্র করে বাড়িতে বাড়িতে চলে রান্নার বাহারি আয়োজন। অতিথি আপ্যায়নের জন্য থাকে মিষ্টি ও ঝাল জাতীয় খাবারের নানা পদ। পূজায় কয়েকটি ভিন্ন স্বাদের রেসিপি নিয়ে এবারের আয়োজন।
 
 
মালাই চপ
 
উপকরণ: ছানা আধা কেজি, তরল দুধ ২ লিটার, ক্রিম সিকি কাপ, কেশর ১ চিমটি, পেস্তা কুচি ২ টেবিল চামচ, চিনি পরিমাণমতো, গোলাপজল সামান্য (ইচ্ছামতো)G
 
সিরার জন্য: ২ কাপ চিনি, ৬ কাপ পানি।
 
 
প্রণালি: ২ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ১ লিটার করে নিন। এবার তাতে ক্রিম ও চিনি দিয়ে জ্বাল দিয়ে রাখুন। ছানা ফ্রিজে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে মথে নিন। এবার গোল গোল করে একটা পাত্রে রাখুন। চিনি ও পানি দিয়ে সিরা তৈরি করে ফুটন্ত সিরায় মিষ্টিগুলো দিয়ে ঢেকে দিন। ১২-১৫ মিনিট পর ঢাকনা খুলে নেড়েচেড়ে আবার ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ পর নামিয়ে নিন। ৩-৪ ঘণ্টা সিরায় রেখে তুলে নিন। এবার ঘন করে রাখা দুধে মিষ্টিগুলো দিয়ে চুলায় ৫ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন গোলাপ জলে ভিজানো কেশর দিয়ে। ঘন দুধে ৪-৫ ঘণ্টা রেখে পরিবেশন পাত্রে রেখে উপরে পেস্তা কুচি ছড়িয়ে দিন।
 
 
রুই মাছ পটল
 
উপকরণ: রুইমাছ ৪-৫ টুকরা, পটল ২৫০ গ্রাম, আদা-রসুন বাটা ১ চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদের গুঁড়া ১/২ চা চামচ, লেবুর রস ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, তেল পরিমাণমতো, লবণ পরিমাণমতো।
 
প্রণালি: প্রথমে রুইমাছটাকে লেবুর রস ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে ৫ মিনিট মেরিনেট করে রাখুন। এবার তেলে হালকা ভেজে নিন। এবার অন্য একটি পাত্রে তেল দিন। পেঁয়াজ বাটা, আদা, রসুন ও মরিচ-হলুদের গুঁড়া দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। কষানো হয়ে গেলে তাতে পটল দিয়ে আবার কিছুক্ষণ কষান। এবার ২ কাপ পানি দিয়ে সেদ্ধ করুন। ওপরে তেল ভেসে উঠলে ভাজা রুই মাছ দিয়ে দিন। রসা রসা হয়ে গেলে সামান্য জুড়িয়ে নিয়ে এরপর পরিবেশন করুন।
 
 
নিমকি পুড়ি
 
উপকরণ: ময়দা ৪ কাপ, ডিম ১টি, পানি সামান্য, ময়ানের জন্য তেল ১/২ কাপ, কালোজিরা ১/২ চা চামচ, তেল ২ কাপ ভাজার জন্য, লবণ সামান্য।
 
প্রণালি: প্রথমে ময়দা চেলে নিন। এবার তাতে একে একে তেল, ডিম, কালোজিরা, লবণ ও পানি দিয়ে ময়ান তৈরি করুন। এবার ময়ানটি পাতলা কাপড়ে জড়িয়ে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। ২ ঘণ্টা পর ফ্রিজ থেকে নামিয়ে ময়ানটি ২০-৩০টি ভাগে ভাগ করে পুড়ি বেলে নিন। এবার চুলায় অন্য পাত্রে তেল দিয়ে ৩ মিনিট গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে পুড়ি হালকা বাদামি করে ভেজে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
 
 
মিষ্টি কুমড়ার ডালনা
 
উপকরণ: মিষ্টিকুমড়া ১ ফালি, পেঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ, সরিষা বাটা ১/২ চা চামচ, চিনি ২ চা চামচ, তেল ১/২ কাপ, কাঁচামরিচ ৪-৫টা, শুকনামরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ।
 
প্রণালি: মিষ্টিকুমড়া কিউব করে কেটে ধুয়ে নিন। চুলায় পাত্র বসিয়ে তেল দিন। তেল গরম হলে পেঁয়াজ, সরিষা বাটা ও মসলা দিন। মসলা কষিয়ে মিষ্টি কুমড়া দিন। এবার মসলাসহ মিষ্টি কুমড়া, কষিয়ে পানি দিন। সিদ্ধ হলে নামিয়ে নিন।
 
 
বুন্দিয়ার লাড্ডু
 
উপকরণ: বেসন ২ কাপ, পানি পরিমাণমতো, ঘি ৩ টেবিল চা চামচ, চিনি ৩ কাপ, পানি ৩ কাপ, মাওয়া ১ কাপ, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, গোলাপ জল সামান্য, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো, তবক পরিমাণমতো, পেস্তা কুচি ৩ টেবিল চামচ।
 
প্রণালি: প্রথমে বেসন পানি দিয়ে বিট করে নিন। এবার খাবার সোডা দিন। ফাঁপানো হলো কি না দেখে নিন। এবার পানি ও চিনি জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করে নিন। এতে ঘি দিন। এবার ঝাঁঝরিতে দিয়ে বুন্দিয়া তেলে ছেড়ে ভেজে হালকা গরম ও ঘন সিরায় ছাড়ুন। সিরা থেকে বুন্দিয়া তুলে চিপে মাওয়া ও পেস্তা কুচি দিয়ে মেখে গোল গোল লাড্ডু তৈরি করুন। লাড্ডুর উপর তবক দিয়ে একটি প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
 
 
পাঁচ মিশালি ডালের মাখানি
 
উপকরণ: রাজমা, মসুরির ডাল, বুটের ডাল, মুগের ডাল, ডাবলির ডাল সব মিলিয়ে ১ কেজি। আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, পাপড়িকা ১ চা চামচ, পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ, সয়াবিন তেল ১ কাপ, লবণ পরিমাণমতো, গরমমসলা ৪-৫টা, তেজপাতা ২-৩টা।
 
প্রণালি: সব ডাল ধুয়ে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। চুলায় বসানো পাত্রে তেল দিয়ে গরম হলে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে এরপর ডাল দিন। ডাল কষিয়ে ৬ কাপ পানি দিয়ে ভালো করে সিদ্ধ করুন। সিদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হয়ে গেলে পোলাও, পরোটা কিংবা সাদা ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।