সরাইলে অপহরণকালে অস্ত্রসহ আটক ১

সরাইলে রাজমিস্ত্রী ইলাল মিয়া (৩৫) কে অপহরণের চেষ্টাকালে এমরান (৩২) কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কদমতুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার আটককৃত এমরানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি মামলা হয়েছে। 
 
পুলিশও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, সরাইল সদরের মোঘলটুলা গ্রামের আবদুল জাহেরের ছেলে রাজমিস্ত্রী ইলাল মিয়া। কদমতুলি তার ভগ্নিপতি আবদুর রহমানের বাড়িতে কাজ করেন।প্রায়ই রাতে এখানে থাকেন তিনি। মঙ্গলবার কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরাইলে আসতে অটোরিকশার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে ইলাল। হঠাৎ খয়েরী রং-এর একটি (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-২১৫৮) প্রাইভেটকার ইলালের সামনে এসে থামে। এমরানসহ ৩-৪জন যুবক গাড়ি থেকে বের হয়ে ইলালকে ধরে টানা খেচড়া করে অপহরণের উদ্দেশ্যে তাদের প্রাইভেটকারে উঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় ইলালের চিৎকারে আশপাশের বাড়িঘর থেকে লোকজন  আসে। তারা এমরান নামের যুবককে ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হয়। এমরান সরাইল সদর ইউনিয়নের বড্ডাপাড়া গ্রামের সুরুজ খাঁর ছেলের এবং ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।  অপহরণকারী দলের অপর তিন সদস্য নাম্বার বিহীন একটি অটোরিকশায় উঠে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। অপহরণকারী আটকের খবর পেয়ে মূহুর্তের মধ্যে শতাধিক লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে আটককৃত এমরান ও প্রাইভেটকারটিকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। ওই গাড়ি থেকে গরু জবাইয়ের বড় একটি ছোড়াসহ বেশ কিছু দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বুধবার সকালে ইলাল মিয়া বাদি হয়ে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। 
 
আসামিরা হলেন- হালুয়া পাড়া গ্রামের আবদুল আলীমের ছেলে নুর আলম (২৯), আবদুল জলিলের ছেলে খুর্শেদ আলম (৩৩), বড্ডাপাড়ার সুরুজ খাঁর ছেলে এমরান খাঁ (৩৩) ও আলীনগরের আমিদ শা’র ছেলে আজিম শাহ (২৮)। এমরানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 
 
ইলাল মিয়া জানায়, গত ৩ জুলাই রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে মোঘলটুলা ও হালুয়া পাড়ার বাসিন্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে হালুয়া পাড়ার শাহ আলম (৩৫) নামের যুবক গুরুতর আহত হয়। পরে তার বাবা আবদুল আলীম বাদি মোঘলটুলা গ্রামের ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ইলাল মিয়া ওই মামলার ৪নং আসামি। ওই বিরোধের জের ধরেই তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। 
 
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলী আরশাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'ধৃত ব্যক্তি অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। এমরানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।'