জয়পুরহাটে জমে উঠেছে শারদীয় দুর্গোৎসব

বাঙালি সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব জেলায় বেশ জমে উঠেছে। পূজা মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, মঙ্গলবার মহাসপ্তমী উপলক্ষ্যে প্রভাতে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথিবিহিত পূজা করা হয়। এ ছাড়াও সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, দেবীকে আসন , বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নান, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধুপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেন ভক্তরা।
সন্ধ্যায় পূজা মন্ডপ গুলোতে ভক্তিমূলক গান, লালন ও রবীন্দ্রসঙ্গীত, রামায়ণ পালা, আরতি সহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহরের বারিধারা মহল্লায় নবজাগ্রত সংসদ আয়োজিত দুর্গোৎসবে মহিলাদের জন্য চাল থেকে মুক্তা বাছাই ও শংখধ্বনী প্রতিযোগিতা অনষ্ঠিত হয়। আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রানে.. সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মহীষাশুর বদ করার কাহিনী অবলম্বনে নাটক “মহীষাশুরমর্দ্দীনি” মঞ্চস্থ হয়। সার্বিক দিক নির্দেশনায় ছিলেন সমীরঞ্জন ধর। কেন্দ্রীয় শিবমন্দিরে আয়োজিত দুর্গোৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের ছোট ভাই তরুন রায় ’ কে বলে মানুষ মরে.. ও ’সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী’ দিয়ে গান গেয়ে শোনান।

আইন শৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারীর মধ্যে জেলায় এবার ২ শ ৬৪ টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য সরকারি ভাবে ১ শ ৩২ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পূজা মন্ডপ গুলোতে আইনশৃংখলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ্ট প্রকাশ করেছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট নন্দকিশোর আগরওয়ালা। বৃহষ্পতিবার মহানবমী ও দশমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং  শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এই আনন্দঘন শারদীয় দুর্গোৎসব।