মিরসরাইয়ে পাহাড় কেটে ফিড মিল স্থাপন করছে একটি পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান। উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মস্তাননগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে গত কয়েকদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে কাটা হচ্ছে পাহাড়। পাহাড় কেটে সমান করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। ওই পোল্টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনের সকল স্তর তিনি ম্যানেজ করে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর আগেও ওই পাহাড়টিতে বাগান ছিলো। প্রতিষ্ঠানটি পাহাড়টি কেনার পর প্রথমে বাগান কেটে খালি করে ফেলে রাখে কয়েক বছর। এরপর প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ধাপে ধাপে পাহাড় কাটতে থাকে। পরবর্তীতে পাহাড়ে বাগান না থাকায় বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ের মাটি অনেকটা ক্ষয়ে সেটি টিলায় পরিণত হয়। এখন ওই টিলার মাটি সমান করে ফিড মিল-২ স্থাপনের কাজ চলছে। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকার হ্যাচারি ও ফিড মিল করার সময় পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছিলো। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় কাটার স্থলে ১৫-২০ জন যুবক ঘোরাফেরা করছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝামেলা এড়াতে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে পাহাড়ে পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যে স্থানে পাহাড় কেটে ফিড মিল করার কাজ চলছে তার পূর্ব পার্শ্বের পাহাড়টিও কেটে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, উঁচু নিচু ভূমিতে ফিড মিল স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় জমিটি সমান করা হচ্ছে। ওই স্থানে গাছ কেটে পর্যায়ক্রমে পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করেন তিনি। অনুমোদন না নিয়ে পাহাড় কাটার বৈধতা সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
তবে অন্য এক কর্মকর্তা পাহাড় কাটার খবরটি সত্য নয় বলে দাবি করেন।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকছুদ আহমদ চৌধুরী অসুস্থ হয়ে হাসপাহালে ভর্তি থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুল হক বলেন, পাহাড় কেটে শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ বেআইনি। তিনি বিষয়টি খোঁজ খবর নিবেন বলে জানান।
এ বিয়য়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পাহাড় কাটার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মকবুল হোসেনের মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা হলে তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।