‘যাবি যেদিন শ্বশান ঘাটে, বাঁশের দোলায় চড়ে’ এ গানের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনসহ নানা কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাঙালী হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের।
মহালয়ায় দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন যাত্রা শুরু হয়েছিল। পঞ্চমী তিথিতে অকাল বোধনে দেবী দুর্গা অধিষ্ঠিত হন মন্ডপে মন্ডপে। এসেছিলেন ঘোটকে, ফিরেছেন দোলায়। শাস্ত্রীয় বিধান মেনে বৃহষ্পতিবার নবমী ও দশমী তিথি পালনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাঙালী হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের ।
গতকাল শুক্রবার পূজার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে জয়পুরহাটের ছোট যমুনা নদীর চকশ্যাম ঘাটে বিসর্জন দেয়া হয় দুর্গতিনাশিনীকে। মা আনন্দময়ীর বিদায়ক্ষণ উপলক্ষ্যে চকশ্যাঘাটে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিসর্জন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র আব্দুল আজিজ মোল্লা, হিন্দু বৌদ্ধখৃস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রিয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট নন্দকিশোর আগরওয়ালা প্রমূখ।
এরপর দেবী দুর্গার বিদায়ে মাইকে করুণ সুরে বাজানো হয় বিদায়ী সঙ্গীত ’ যাবি যেদিন শ্বশান ঘাটে বাঁশের দোলায় চড়ে.., আর কতকাল কান্দাবীরে দয়াল..., মানুষ হইয়া জন্ম নিয়া মানুষের জন্য করিলাম কি, মা জননী গো কেমনে শোধই তোমার ঋণ’ এ গান গুলোর সঙ্গে চলে প্রতিমা বিসর্জন।
জেলার প্রতিটি মন্ডপে বৃহষ্পতিবার সকাল থেকেই ভিড় ছিল ভক্তদের। সন্ধিপূজা দিয়ে শুরু হয় নবমী পূজা। শাপলা-শালুক ও বলিদান সঙ্গে ছিল নানা আনুষ্ঠানিকতা। শাস্ত্রমতে নবমীতেই দেবী বন্দনার সমাপ্তী। তাই ভক্তরা প্রার্থনা করতে থাকেন দেবীর উদ্যেশ্যে। মা দুর্গাকে প্রণাম জানাতে এক মন্ডপ থেকে আরেক মন্ডপে যান ভক্তরা। প্রতিটি মন্ডপে চলে জমজমাট আয়োজন। এর মধ্যে বিদায়ের সুর, উচ্ছাস-আনন্দের পরই কষ্টের বিজয়া দশমী।
জয়পুরহাটের পূজা মন্ডপ গুলোতে সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি দেখতে আসেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত ডি আই জি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, বিপিএম। জেলা শহরের বারিধারা ও কেন্দ্রিয় বারোয়ারি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে ভক্তবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম সহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলায় এবার ২ শ ৬৪ মন্ডপে দূর্গা পূজার আয়োজন করা হয়। সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের জন্য প্রতি মন্ডপে ৫শ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয় সরকারিভাবে।