গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির গ্রেফতার

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা আমির ও রাবেয়া ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুর রহিমকে (৫৫) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শনিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে গাইবান্ধা শহরের টার্মিনাল রোডের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
 
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মেহেদি হাসান জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গাইবান্ধা সদরের তুলশীঘাটে ঢাকাগামী কোচে পেট্রোলবোমা ছুড়ে আট জনকে পুড়ে হত্যা ঘটনার মামলাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার মামলা আছে। তিনি এত দিন পালাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 
 
ওসি বলেন, 'পেট্রোলবোমা ছুড়ে আটজনকে পুড়ে হত্যা ঘটনার মামলায় এ পর্যন্ত ২৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।' 
 
গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সীচা থেকে ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে নাপু পরিবহনের একটি বাস ঢাকার পথে রওনা হয়। বাসটি গাইবান্ধা শহরের কেন্দ্রীয় ট্রামিনালে আসার পর আরও ১০-১৫ জন যাত্রী বাসে উঠানো হয়। সেখান থেকে পুলিশ পাহাড়ায় আরও বেশ কিছু যানবাহনের সঙ্গে একযোগে পুনরায় ঢাকার পথে অগ্রসর হয়। পথে রাত ১১ টায় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের তুলসীঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলকায় পৌঁছলে অবরোধকারীরা ওই বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে। এতে পুড়ে মারা যায় ৮ জন। দগ্ধ হন ৩০ জন এবং আহত হন আরও ১০-১২ জন। বাসযাত্রীদের একজন বিজিবি সদস্য ও দুই জন শিক্ষার্থী ছাড়া বেশির ভাগই দিনমজুর, রিকশাচালক। যারা কাজের সন্ধানে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এই ঘটনায় সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইনে সহকারী পরিদর্শক (এস আই) মাহবুবুর রহমান রহমান বাদি হয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।