ভারতের মনস্তাত্ত্বিক বাধা দেখছেন গিলক্রিস্ট

গ্যাবায় তখন চলছে ভারতের অধিনায়ক। তখনই হঠাত্ উদয় হলেন তিনি। তাকে দেখে এগিয়ে গেলেন স্বয়ং বিরাট কোহলি। না গিয়ে উপায়ও নেই, কারণ যিনি এসেছেন তিনি হলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। দু’জনকে বেশ খানিকক্ষণ কথা বলতেও দেখা গেল।

আলাপচারিতা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখিও হলেন সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে দিলেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শও।

গিলক্রিস্ট মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাফল্য নির্ভর করছে তাদের মানসিকতার ওপর। তার মতে, বিদেশের মাটিতেও অজিদের হারানোর ক্ষমতা ভারতের আছে। তবে এ জন্য ভারতীয় দলকে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর করতে হবে।

গিলক্রিস্টের বিশ্বাস ভারত কেবলমাত্র তাদের মানসিকতার কারণেই গত সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ হেরেছে। সাবেক এই উইকেটরক্ষ বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে খেলাটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে আমি মনে করি ভারতীয় দলে শক্তিশালী বোলিং বিভাগ এবং বিশ্ব সেরা বিরাট কোহলিসহ বেশ কয়েকজন মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান তাদের রয়েছে। বিদেশের মাটিতে জয়ী হওয়ার যোগ্যতা তাদের আছে। সম্ভবত শরীরের চেয়ে এটা কেবল মানসিকতার বিষয়।’

ভারতীয় দলের সর্বশেষ বিদেশ সফরে ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ হেরেছে। তবে সুযোগগুলো তারা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। সফরের অধিকাংশ সময় ভালো খেলেও ইংল্যান্ডের কাছে ৪-১ এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে ভারত।

গিলক্রিস্টের বিশ্বাস কেবল নিজ মাঠ নয়, বিশ্বের যে কোন স্থানে ভালো করার যোগ্যতা কোহলির আছে এবং ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যায় অস্ট্রেলিয়াও ব্যাট হাতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেবেন ভারতীয় অধিনায়ক।

ভারতীয় অধিনায়ককে স্লেজিং না করার পরামর্শও দেন তিনি। গিলক্রিস্ট আরো বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া দল স্লেজিং করলে সম্ভবত ভারতীয় অধিনায়কের মধ্য থেকে সেরা নৈপুণ্যটাই বের হয়ে আসতে পারে। আমার মনে হয়, সে এমন একজন ব্যক্তি যে কিনা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। অস্ট্রেলিয়া দলের চিন্তা হওয়া উচিত— ইংল্যান্ড সফরের মতো তিনি যেন বড় রান না পান।’

ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ন্যায় অস্ট্রেলিয়াতে ভারতীয় ফাস্ট বোলিংয়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা আশা করছেন গিলক্রিস্ট। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। তারা সবাই ফিট, শক্তিশালী, আগ্রাসী ও বয়সে তরুণ। সুতরাং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে আপনাকে সেরাটাই দিতে হবে।’