সবুজের গোলে ফাইনালে বসুন্ধরা

ফাইনালে এতোটা উত্তেজনা হবে কিনা আগাম বলা যাবে না। তবে গতকাল মঙ্গলবার যারা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ ফুটবলে বসুন্ধরা কিংস এবং শেখ রাসেলের সেমিফাইনাল দেখেছেন, তারা এরকম উত্তেজনা দেখেছেন। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ধাক্কাধাক্কি, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং গোল করতে না পারার মহড়াও দেখা গেছে। উভয় দলই গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। অথচ এ দুই দলে চল্লিশ, পঞ্চাশ লাখ টাকা পারিশ্রমিকের খেলোয়াড় রয়েছেন। আছেন রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল খেলে আসা ফুটবলারও। শেষ পর্যন্ত ১১৮ মিনিটে সব উত্তেজনার অবসান হয়। গোল পায় বসন্ধুরা কিংস। তৌহিদুল আলম সবুজের গোলে ভর করে বসুন্ধরা কিংস ১-০ ব্যবধানে শেখ রাসেলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল।

আগামী ২৩ নভেম্বর শুক্রবার ফাইনালে আবাহনী খেলবে বসুন্ধরার বিপক্ষে।

বসুন্ধরার এ স্ট্রাইকার কাল দেখিয়েছেন সাইড বেঞ্চে থেকেও হিরো হওয়ার সুযোগ থাকে। একাদশে ছিলেন না। থাকারও কথা না। কারণ ইনজুরি। খেলা শেষে হাফপ্যান্ট তুলে ডান উরুতে দেখালেন বড় ধরনের ইনজুরি। ব্যান্ডেজ বাঁধা। এ অবস্থায় ‘হাইভোল্টেজ’ ম্যাচে নামা মানে ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকি। তারপরও সবুজ মাঠে নামলেন ইমন বাবুর বদলে, ৭০ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন। রেফারি জালাল উদ্দিন ১২০ মিনিটের খেলার শেষ বাঁশী বাজালেন। মাঠের বাইরে থেকে অন্য খেলোয়াড় সমর্থকরা দৌড়ে ঢুকে সবুজকে বাইরে এনে উল্লাস করলেন। সংবাদ মাধ্যমও তাকে ঘিরে ধরল।

সবুজ বললেন, তার মাঠে নামার কথা ছিল না। সকালেই তিনি কোচ অস্কার ব্রুজেনকে বলেছিলেন তাকে যেন না নামানো হয়। স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে কথা ছিল, মাঠে নেমে যদি তারা গোল না পান তা হলে শেষ দিকে সবুজকে নামানো হবে। সবুজ গোলের জন্য চেষ্টা করবেন। সবুজ তার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে সফল হয়েছেন। একটা গোল প্রয়োজন ছিল সেটা এনে দিয়েছেন। বসুন্ধরাকে ফাইনালে তুলেছেন। গোল যেন কোটি টাকার চেয়েও মহামূল্যবান হয়ে গেল বসুন্ধরার কর্মকর্তাদের কাছে। একমাত্র গোলদাতা মহেশখালীর ছেলে সবুজ সবার কাছে হয়ে গেলেন হিরো।

শেখ রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটু সেমিফাইনালে হেরেও অখুশি নন। কারণ তার খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও সেমিফাইনালে যে শ্রমটা দেয়া দরকার বসুন্ধরার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেটি করতে পারেনি সোহেল রানা, বিপলু আহমেদরা। খেলায় হেরে সিলেটের ছেলে বিপলু কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ছিলেন। বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার নাসির চৌধুরী তাকে সান্তুনা দিলেন। কোচ টিটু তখন ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলছিলেন, ‘ওরা (বসুন্ধরা কিংস) জান বাজি রেখে খেলেছে। দুইটা বিদেশি নেই সেটা বুঝতেই দেয়নি। আমাদের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল শেষ পর্যন্ত লড়াই করা।’

ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বে ৫-২ গোলে মোহামেডানকে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে বিজেএমসিকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। অথচ বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমে গোল পেতে কষ্টই হলো। কলিন্দ্রেস অন্যান্য খেলায় যতটা উজ্জল ছিলেন, কাল শেখ রাসেলের বিপক্ষে তাকে খুঁজে পেতে কষ্টই হয়েছে। অবশ্য অনেক অপেক্ষার গোলটির পেছনে ছিলেন সেই কলিন্দ্র্রেস। হেমন্তের বাড়িয়ে দেয়া বলের উপর টোকা মারেন কলিন্দ্রেস। বলটা শেখ রাসেলের পোস্টের গোড়ায় লেগে ফিরে আসলে সবুজ গোলে পরিণত করেন ১-০। বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা কিংস।