বাগেরহাটে ঘের ব্যবসায়ীকে হত্যা: তিন চরমপন্থির যাবজ্জীবন

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী তুষার মোড়লকে (২৮) হত্যার দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন,  চরমপন্থি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এম-এল জনযুদ্ধ)  ক্যাডার ওরফে লিটন ওরফে দুলাল ওরফে রানা, কাশেম সেখ ও লিয়াকত সেখ।
 
দীর্ঘ ১৮ বছর পর রবিবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ইমামুল ইসলাম ও কাশেম সেখ পলাতক রয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় ছয়জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। বিচারিক কার্য চলাকালে মারা যাওয়ায় তিনজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
 
মামলার বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে উপজেলার মানসা বাজারের বিমলের চায়ের দোকানে মৌভোগ গ্রামের জিন্নাহ মোড়লের ছেলে চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী তুষার মোড়ল চা পান করছিলেন। এ সময় ওই চরমপন্থি গ্রুপের  ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী তুষার মোড়লকে কুপিয়ে হত্যার পর বোমা ফাটিয়ে ও গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে স্থান ত্যাগ করে। ঘটনায় পরের দিন নিহতের ভাই আজাহার মোড়ল বাদী হয়ে ফকিরহাট থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ১৯৯৭ সালের পাঁচ অক্টোবর তৎকালীন ডিবি পুলিশের এসআই হাবিবুর রহমান ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জসিট দাখিল করেন। এ মামলায় আদালত ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।