শুভ বুদ্ধির উদয় হোক

আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, উভয় পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক-মালিক ফয়সাল আরেফীন দীপনের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর গতকাল দুপুর পৌনে বারটায় তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হক এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দীপনের শ্বশুর ডা. জালালুর রহমান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান।

 
শনিবার সন্ধ্যায় দীপনের লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানীর লালমাটিয়ায় ব্লগার অভিজিতের বইয়ের আরেক প্রকাশক শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলা হয়। সেখানে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করে হামলাকারীরা।
 
আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ছেলের লাশ পাওয়ার পর দীপনের বাবা বলেছিলেন, লালমাটিয়ায় যারা হামলা করেছে, তারাই তার ছেলেকে হত্যা করেছে বলে তার বিশ্বাস। এ ব্যাপারে গতকাল রবিবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ক্ষোভ থেকে তিনি ওই বক্তব্য দেননি- বলেছেন নিজের বিবেচনাবোধ থেকে। তিনি আরো বলেন, দেশের ভেতর যদি শুভবুদ্ধির উদয় হয় তাহলে, সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিচার দিয়ে আইন আদালত দিয়ে আমরা শাস্তি দিতে পারি একজনকে। কিন্তু জাতীয় উন্নতি দরকার। সেজন্য গতকাল (শনিবার) যে কথা বলেছি যৌক্তিক বিবেচনা করেই বলেছি। সেটা কোনো আবেগের, উত্তেজনার কথা নয়।
 
মামলা করবেন কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মামলা করবো। আমি আইন মেনে চলি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটি বলেছে একটা দরখাস্ত লিখে দিতে। আমি আজ না পারলে আগামীকাল লিখে দেব। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি এটার ওপর নির্ভর করি। আমি শুভবুদ্ধির জাগরণ চাই। সমাজ, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে। এর আগে চলতি বছর চার লেখক-ব্লগার হত্যার ঘটনায় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অধ্যাপক আবুল কাসেম বলেন, ঘটনা ঘটছে। এজন্য সরকার চেষ্টা করছে রীতি অনুযায়ী। আমার কাছে মনে হয় এটা আদর্শগতভাবে, রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। তারপরে আইনগতভাবে। তা না হলে এর সমাধান হবে না।
 

দীপনের লাশ হস্তান্তরের সময় হাসপাতালে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে সাংবাদিকরা এসময় জানতে চান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা ছিল কিনা। উত্তরে তথ্য মন্ত্রী বলেন, যে হারে নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা ঘটছে, সে বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত সাড়ে ৬ বছরে চমত্কার কাজ করতে পেরেছে। জঙ্গি তত্পরতা এতটুকু রূপ নিতে পারত না যদি এর পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকতো।