ফিফা প্রীতি ম্যাচ
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
বাংলাদেশের বিপক্ষে কম্বোডিয়ার ফুটবল প্রীতি ম্যাচ নিয়ে সেখানকার শহরে দারুণ উত্তেজনা ছিল। সেখানকার সংবাদ মাধ্যম ম্যাচের আগে টকশো করা ম্যাচের ফাঁকে টকশো করেছে। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার ফিফা প্রীতি ম্যাচটি টিভিতে সম্প্রচার করেছে। কম্বোডিয়ার ফুটবল দর্শকরা ধরে নিয়েছিল নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেবে। এমন আশা নিয়ে যারা নমেপেন স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন তাদের চাওয়া অপূর্ণই থাকল। কম্বোডিয়ার ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ১-০ গোলে কম্বোডিয়াকে হারিয়েছে। ৬৫ মিনিটে খেলতে নেমে বদলি ফুটবলার রবিউল হাসান ৮৩ মিনিটে গোল করেছেন। আনন্দ করে মাঠ ছেড়েছেন বাংলাদেশের ফুটবল দর্শক। খেলোয়াড়রাও ভাবেনি ম্যাচের দিন তাদের পেছনে এতো দর্শক গলা ফাটাবে। কম্বোডিয়ায় অবস্থানকারী বাংলাদেশি দর্শক পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন। হতে পারে হাজার খানেক দর্শক। বিশাল সাইজের লাল সবুজ পতাকা তুলে ধরেছেন গ্যালারিতে। বাংলাদেশ যখনই পায়ে বল পেয়েছে গ্যালারি হতে দর্শক গলা ফাটিয়ে প্রেরণা দিয়েছেন। অনেকের হাতে হাতে জাতীয় পতাকাও দেখা গেছে। গোলের আশায় ছিলেন। সেই গোল উপহার দিয়েছেন বাংলার ফুটবলার।
অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জয় পাবে না বাংলার ফুটবলাররা। নানা কারণও তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু সেব কোনোটাই মিলেনি। ঢাকায় বসে বিভিন্ন মাধ্যমে খেলা দেখে এইটুকু মনে হয়েছে। জীবন, মতিন মিয়া, তপু বর্মন, বিশ্বনাথ, জামাল ভুঁইয়া, বিপলু, জনি, ইব্রাহিম, রবিউল, আরিফুল, সুশান্তরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন। এতোটা সুন্দর গোছালো ফুটবল ছিল অপ্রত্যাশিত।
কম্বোডিয়া আক্রমণ করলেও তারা বাংলাদেশের ঘরে ভাঙন ধরাতে পারেনি। ব্রিটিশ কোচ জেমি ডের পরিকল্পনা ছিল প্রতিপক্ষ যখনই আক্রমণে যাবে তখনই তাদেরকে অক্টোপাসের মতো ঘিরে ধরো। সেটাই করেছে সবাই। বাংলাদেশ পায়ে পায়ে ফুটবল খেলেছে। গুছিয়ে খেলেছে। কখনো প্রয়োজনে লং বল ফেলেছে। লং বল হতে গোলের দেখা পেয়ে যেত যদি জীবন বাইরে না মারতেন। জীবনের বদলে মাঠে নেমে ছিলেন রবিউল। সুফিলের কাটব্যাকের বল চিলের মতো ছোঁ মেরে চোখের পলকে কম্বোডিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন রবিউল ১-০।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে রবিউল হাসানের প্রথম গোল ‘এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম গোল। সেটা আবার হোমে নয়, অ্যাওয়ে। এই অনুভূতি প্রকাশ করে শেষ করতে পারব না। বিশেষ করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ এই বয়সে আমাকে জাতীয় ফুটবল দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। সবার দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আজকে গোল করছি। আমি অনেক বেশি খুশি। এই গোলটা আমার দেশের মানুষকে উত্সর্গ করলাম।’ বাংলাদেশ এবার নিয়ে চার ম্যাচ খেলল। তিনটিতে জয় একটি ড্র হয়।