নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

দুবলায় যেতে বাধা রইলো না জেলেদের

 
আবশেষে শুটকি আহরণ করতে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে জেলেদের চলাচলে নিষেধাঞ্জা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। বন বিভাগের উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় সুন্দরবন সংলগ্ন পশুরনদীতে আটকে পড়া হাজার হাজার জেলেদের মধ্যে স্বতি ফিরে এসেছে। আজ থেকে আবারো সুন্দরবন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে পাশ পারমিট নিয়ে জেলেরা দুবলার চরে যেতে পারবে বলে নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ববন বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম।
 
এদিকে সুন্দরবনের পশুর নদী দিয়ে দুবলার চরে শুটকি আহরণের প্রস্তুতি নিয়ে নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে পড়া হাজার হাজার জেলেরা সুন্দরবন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে দ্রুত পাশ পারমিট নিতে বন বিভাগে জড়ো হতে শুরু করে। হঠাৎ করে বন বিভাগ সুন্দরবনের পশুরসহ বনের মধ্যকার নদী-খাল ব্যবহার করে মৎস্য আহরনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করায় লক্ষাধিক জেলে পরিবার শুটকি আহরন মৌসুমকে সামনে রেখে দুবলায় যেতে পারছিলো না। এ অবস্থায় তারা বন বিভাগের এ হটকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুসে ওঠে এবং হাজার হাজার জেলে অত্মহুতির হুমকি দেয়।
 
এ বিষয়ে দুবলা ফিসারম্যান গ্র“পের সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেন জানান, মৎস্যজীবীরা কখনো বণ্যপ্রাণি শিকার করে না। কারণ বন ও সমুদ্র সম্পদের ওপর তাদের জীবিকা নির্ভর। জেলেদের সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করেই হঠাৎ করে দুবলায় যেতে এ পথ বন্ধ করে দেয়া আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছিল । তার পরও বনবিভাগ হাজার হাজার জেলে বহরদারদের জীবন জীবিকার কথা বিবেচনা করে  নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাদের সাধুবাদ জ্নাাই। বন কর্তৃপক্ষ তড়িৎ সিদ্ধান্তের ফরে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে আটকে পড়া জেলেদের মধ্যে স্বতি ফিরে এসেছে। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে খুশির আমেজ।
 
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে  সুন্দরবনের পশুরনদী দিয়ে দুরলার চরে যেতে জেলেদের উপর যে নিষেধাজ্ঞা বলবদ ছিল তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। যে কারনে সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে জেলেদের আর কোন বাঁধা নেই। এখন থেকে বন বিভাগের অনুমনি নিয়ে জেলেরা তাদের শুটকি আহরনের গন্তব্য দুবলায় যেতে পারবে।
 
শুঁটকি ব্যবসায়ী জালাল আহমেদ বুলবুল জানান, বন বিভাগের সব শর্ত মেনে সরকারী রাজস্ব দিয়ে ব্যবসায়ীরা সাগর পাড়ে ব্যবসা করেন। ৩/৪ মাস আগে থেকেই ব্যাংক ও এনজিওর কাছ থেকে ঋন নিয়ে জাল-নৌকা ঠিক করে ব্যবসার প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই বন বিভাগ চরে অবস্থান করে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরনের পাশ বন্ধ করে দেয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে কয়েকশ” নৌকা ও জেলে সাগরে যাবার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নদীতে অবস্থান করছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে জেলেদের ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হতো। তিনি বলেন গত কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনের নদী খালে অবস্থান করা ৭/৮ শ’ নৌকার সহ¯্রাধিক জেলে মানবেতর জীবন যাপন করছিলো। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।