যৌতুকের কারণে শিমুরানী বর্মণ (২০) নামের এক গৃহবধূকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করেছে স্বামী। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। এ ব্যাপারে নিহত গৃহবধূ বাবা শুভরণ বর্মণ বাদি হয়ে ৭জনকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গারের গ্রাম সাকিনের শুভরণ চন্দ্র বর্মনের মেয়ে শিমুরানী বর্মন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে শিমুর বিয়ে হয় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চরপাড়া গ্রামের অতুল দাসের ছেলে সুব্রত দাস জগায়ের সঙ্গে। গত ২৮ অক্টোবর বিকালে যৌতুকের কারণে ঘরে আটকে রেখে স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ি ননদ মিলে শিমুকে মারপিট করে। মারপিটের এক পর্যায়ে তারা শিমুর শরীরে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি মারাত্বক দগ্ধ হন। খবর পেয়ে শিমুর আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে এই দিন রাতে প্রথমে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন সকালে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর রাতে তিনি মারা যান। স্বামীর বাড়ির লোকজন শিমুর মৃত্যুর খবর তার বাবা-মাকে না জানিয়ে গত ৪ নভেম্বর ঘাটাইলের চরপাড়া নিয়ে এসে দাহ করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু শিমুর বাবার বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় রাতেই শিমুর লাশ ঘাটাইল থানায় নিয়ে আসে এবং নিহত গৃহবধূ বাবা শুভরন বর্মন বাদি হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় স্বামীসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামীরা হলেন- শিমুর স্বামী সুব্রত দাস জগাই (২৫), কান্টু দাস (৩০), অতুল দাস (৫৬), কানন রানী (৪৫), সুভাষ দাস (৬০), গৌর দাস (৩০) ও তাপস দাস (২৫)।
নিহত গৃহবধূর মা নিভারানী জানায়, বিয়ের পর থেকেই ৫লাখ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণের জন্য শিমুকে মাঝে মধ্যেই মারপিট করত। ঘটনার আগের দিনও শিমুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, যৌতুকের কারণে তার মেয়েকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামীকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।