দেশে বছরে আড়াই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব

বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে গোলটেবিল

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে বছরে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ কিডনি প্রতিস্থাপন হয়। অথচ মৃত ব্যক্তির কিডনি সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করলে তা দেড় থেকে দুই হাজার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ। তিনি বলেন, উন্নত দেশে মোট কিডনি প্রতিস্থাপনের ২০-২৫ ভাগ নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে হয়। অথচ বাংলাদেশে শত ভাগই নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে ডোনার হওয়ার আইন রয়েছে, যা পরিবর্তন হওয়া দরকার। দুর্ঘটনা বা অকালে এবং রোগে মৃত্যুবরণকারীদের কিডনি সংগ্রহ করে কিডনি বিকল রোগীদের প্রতিস্থাপন করে দিতে পারলে কিডনি চিকিত্সায় অনেক অগ্রগতি হবে। প্রতিস্থাপনের সংখ্যাও বেড়ে যাবে।

আগামী ১৪ মার্চ ‘বিশ্ব কিডনি দিবস’। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ। কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এর আয়োজন করে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ যুগ্মসচিব মোঃ সাইফুল্লাহিল আজম, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর প্রিন্সিপাল মেজর জেনারেল অধ্যাপক ডা. এইচ আর হারুন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মডেল নিরব হোসেন প্রমুখ। ক্যাম্পস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং বিআরবি হসপিটালস-এর কিডনি বিভাগের চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ এ গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম বলেন, ক্যাম্পস কিডনি রোগ প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে দেশে ও বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছে। কিডনি সমস্যা আজ দেশে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব রাখছে। এর পেছনে এ্যাকসেস টু ট্রিটমেন্ট বড় কারণ।

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, নেত্বস্থানীয় লোক, শিক্ষক, ইমাম শ্রেণির প্রতিনিধিবৃন্দ এক্ষেত্রে সচেতনতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নিরব হোসেন বলেন, কিডনি রোগের পেছনে ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার মূল কারণ। তাই মূলকেই আগে প্রাধান্য দিতে হবে যাতে তা না হয়।

ডা. এম এ সামাদ মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে ২ কোটিরও অধিক লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় এদেশের শতকরা ১০ জন রোগীও এ চিকিত্সা চালিয়ে যেতে পারে না। অর্থাভাবে চিকিত্সাহীন থেকে অকালে প্রাণ হারান সিংহভাগ রোগী। পক্ষান্তরে, একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগের উপস্থিতি ও এর কারণ শনাক্ত করে তার চিকিত্সা করা।

বক্তারা বলেন, ধনী-গরিব কিংবা সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি নির্বিশেষে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার সর্বস্তরের কিডনি রোগীদের চিকিত্সা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করণের অঙ্গীকার এবং বাস্তবায়নের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতে হবে। সুস্থ জীবনধারা চর্চার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন তারা। নিয়মিত ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা, পরিমিত সুষম খাবার খাওয়া, কাঁচা লবণ পরিহার করারও তাগিদ দেন তারা।