সোনালী ব্যাগসহ পাট শিল্প বিকাশে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

 ‘পাটের অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ বিপর্যয়’ শীর্ষক সেমিনার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পরিবেশবান্ধব বলেই পাটশিল্প আজ বিপুল সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিশ্বের সর্বত্রই আজ পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। দেরিতে হলেও বাংলাদেশে পাটের উত্পাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গতকাল শনিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত পবা মিলনায়তনে ‘পাটের অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ বিপর্যয়’— শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান।      

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, এক সময় পাট শুধু জাতীয় অর্থনীতিতে নয় বরং প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে গ্রামীণ-অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ব্যাপকভাবে পাট চাষ কৃষিতে ফসল চক্র, কৃষি জমির উর্বরতা রক্ষাসহ পরিবেশ রক্ষায় তাত্পর্যপূর্ণ ছিল। বিশ্বব্যাংক-কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট পলিসির (এসএপি) কারণে আদমজীসহ পাট শিল্পকে ধ্বংস করা হয়। অসাধু চক্র পলিথিনের ব্যাপক বিস্তার ঘটায়। এতে শহর ও গ্রামীণ পরিবেশ বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়রোধে পাটের ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে পাট শিল্প বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশ ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য সোনালী ব্যাগসহ পাট শিল্প বিকাশে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানি ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানি পাটের জিনগত বৈশিষ্ট্য আবিষ্কারের মাধ্যমে তুলার মতো মিহি সুতা আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানি ড. মাকসুদুল আলমের আকস্মিক মৃত্যুর পর তারই সহকর্মী বিজ্ঞানিরা পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট থেকে পলিব্যাগ আবিষ্কার করেছেন, যা সোনালী ব্যাগ হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। পলিব্যাগ পলিথিনের মতোই হালকা, সহজে বহনযোগ্য এবং পচনশীল।

বক্তারা আরো বলেন, সরকার ঘোষিত ২১টি জেলায় পাট গুচ্ছ শিল্প (জুট ক্লাস্টার) গড়ে তোলার উদ্যোগটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সেই সাথে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার আধুনিকায়ন, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পাটকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আবদুস সোবহান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৈয়ব আলী, পবা’র সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, বানিপা’র সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন, ছায়াতল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বি এম সোহেল রানা, সেতু সংঘ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ ইলিয়াস হায়দার, পবা’র সদস্য দিনা খাদিজা, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা মোস্তারী বেগম প্রমুখ।