কুমিল্লায় আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিতে বৈদ্যুতিক তারের জট

আতঙ্কে পথচারী ও বাসিন্দারা

 কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরের বেশিরভাগ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিতে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের তার ঝুলে আছে। সড়ক, বাসা-বাড়ি, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে বিপজ্জনক এসব হাই-ভোল্টেজ লাইনের নিচে দিয়ে দিনে-রাতে আতঙ্কে পথ চলেন পথচারীরা। এতে পথচারী ও অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দার মাঝে দুর্ঘটনার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর অনেক আবাসিক এলাকার বাসা-বাড়ির জানালার পাশ ঘেঁষে টানা রয়েছে হাইভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তার। কোথাও আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির ছাদ কিংবা জানালার পাশেই বিদ্যুতের লাইন ছুঁই ছুঁই করছে। নগরীর জনবহুল কান্দিরপাড় এলাকার টাউন হল সুপার মার্কেট সংলগ্ন বিদ্যুতের খুঁটি যেন তারের ভারে নুয়ে পড়ছে। এতে ওই মার্কেটের দোকানিরা দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মার্কেটের দ্বিতীয় তলার তসিফ ইলেক্ট্রনিক্স সংলগ্ন বিদ্যুতের তারের জঞ্জালপূর্ণ খুঁটি থেকে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জাফর আলম, আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুত্ সঞ্চালনের ঝুঁকিপূর্ণ ওই খুঁটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে জীবনহানিসহ মার্কেটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া নগরীর মনোহরপুর, রাজগঞ্জ, ঝাউতলা, ঠাকুরপাড়া, চকবাজার, মোগলটুলী, ছোটরা, কাপ্তানবাজার, উত্তর ও দক্ষিণ চর্থাসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও সড়কের পাশে জরাজীর্ণ বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণ তার ঝুলে রয়েছে। নগরীর চর্থা এলাকার বাসিন্দা মো. তারিকুল ইসলাম, কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবসহ অনেকে জানান, সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের নাজুক খুঁটি ভেঙে পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

জরাজীর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন ছুঁই ছুঁই করা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভবনের মালিক জানান, বিদ্যুত্ বিভাগে অভিযোগ করে কোনো লাভ হয় না। এ জন্য অভিযোগ করাই ছেড়ে দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের জানান, ভবন নির্মাণের পর এ ধরনের লাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক যাচাই-বাছাই করার কথা। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে লাইন টানা হতে পারে। বিদ্যুত্ আইনে হাইভোল্টেজের সঞ্চালন লাইনের নিচে কোনো ঘরবাড়ি বা স্থাপনা থাকতে পারবে না, ডানে ও বামে কমপক্ষে ১০ ফুট ফাঁকা থাকতে হবে। অনেক আবাসিক এলাকায় নতুন নতুন বাসা হওয়ায় লাইনগুলোর সঙ্গে বাসার দূরত্ব কমে যাচ্ছে। তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করলে পদক্ষেপ নেয়া হবে।