লাকসামে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অবাধে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

মোঃ আবদুল কুদ্দুস, লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

লাকসাম উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় সকল হাট-বাজারে পানের দোকান থেকে শুরু করে জুতার দোকান পর্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। ফলে যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। উপজেলা ও পৌর শহরের দুই শতাধিক দোকানে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। দোকানের সামনে এমনকি ফুটপাতে সিলিন্ডার ফেলে রেখে ব্যবসায়ীরা এলপি গ্যাসের রমরমা ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব দোকানের সিংহভাগেরই বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স নেই। গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রেখে এমন রমরমা ব্যবসার নজির দেশের অন্য কোথাও নেই। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। জনাকীর্ণ এলাকায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে বিক্রি হচ্ছে পৌর শহরের বাইপাস, উত্তর বাজার, চৌদ্দগ্রাম রোড, দক্ষিণ বাজার, ধান বাজার, নোয়াখালী রেলগেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড, আল-আমিন স্কুলসংলগ্ন, রাজঘাট, পূর্ব লাকসাম, নসরতপুর, জংশন বাজার এলাকায়। তারা রাস্তার উপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাসের চুলা। পাশাপাশি বিক্রি করছেন পেট্রোল ও ডিজেল। এছাড়াও ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার, ফাস্টফুড, কসমেটিক, তেল বিক্রয়, ফ্লেক্সিলোডের দোকানসহ হাইওয়ে রাস্তার পাশে, ফুটপাতে, গ্রামের রাস্তার মোড়ে, ফার্মেসিতে, থান কাপড় বিক্রির দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার। এলপি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো দোকানের সামনে বা ভেতরে খোলামেলা অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা। এসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ দোকানই তা মানছে না। অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কথা হয় কয়েকজন এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, এলপি গ্যাস ও পেট্রোল বিক্রির নিয়ম-কানুন তারা জানেন না। কিভাবে বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স করতে হয় তাও জানেন না তারা। অধিক লাভের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল মজুত ও বিক্রি করছেন। কোনো কোনো দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও তার বেশিরভাগই মেয়াদ উত্তীর্ণ।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম সাইফুল আলম জানান, এ ধরনের দাহ্য পদার্থ বিক্রি ও ব্যবহারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। নিরাপদ স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বিক্রি ও ব্যবহার করা উচিত। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের আগামী মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পৌর কর্তৃপক্ষকেও চিঠি দেয়া হবে।