দলীয় কোন্দল চরমে

জলঢাকায় এক যুগেও সম্মেলন হয়নি আওয়ামী লীগের

 
অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়েই চলছে জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড। একদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি-সম্পাদক। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিভক্ত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠন।
 
উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আর এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত আবার সংঘটিত হচ্ছে। যার প্রমাণ গত ১৫ জুন মহিলা সংরক্ষিত আসন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থীত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।
 
২০০৪ সালে ২৩ নভেম্বর সর্বশেষ সম্মেলন হয় দলটির। জলঢাকা পাইলট হাই স্কুল মাঠে বর্তমান কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আব্দুল মান্নানের উপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে আনছার আলী মিন্টু সভাপতি ও সহীদ হোসেন রুবেল সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়। সেই থেকে অদ্যাবধি সম্মেলন হয়নি দলটিতে।
 
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জামায়াত নির্ভর হয়ে পড়ে উপজেলাটি। যার কারণে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ৩ বার এমপি হিসাবে নির্বাচিত হয়। এর মূল কারণ হিসাবে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলকে দায়ী করছেন দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাটিতে অনেক প্রতিকূল অবস্থায় রাজনীতি করতে হয়েছে দলটিকে সে কথা যেন ভুলতে বসেছে নেতাকর্মীরা এমন অভিযোগ করছেন বর্তমান সময়ের নেতারা।
 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেন উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সভাপতি ও প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাকে। সে সময় জাসদ সমর্থীত প্রার্থী অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে ৮৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করেন বর্তমান এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা।
 
উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান বিএ উপজেলা সভাপতি আনছার আলী মিন্টু  সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, 'দলীয় সম্মেলন না দিয়ে প্রায় ১ যুগ ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বর্তমান দলীয় এমপির সকল কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। দলীয় সকল কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন।
 
এ দিকে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা একে আজাদ বলেন, 'সম্মেলন প্রস্তুতির অংশ হিসাবে গত বছর সদস্য সংগ্রহের অভিযানের বই এমপি মহোদয় নিজ উদ্যোগে এনে দিলেও সভাপতি-সম্পাদক নিজেদের পদ হারানোর ভয়ে সম্মেলনের কোন প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। তিনি অচিরেই দলটির সম্মেলন দাবি করেন।
 
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ আলী স্থানীয় সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে বিভিন্ন ইউনিয়নে কাজ করতে চাইলে এমপি আমাদের দলীয় কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছেন। তিনি আরো বলেন, এমপি এমন লোকদের দিয়ে দল পরিচালনা করতে চাইছেন যারা কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না।
 
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার আলী মিন্টু তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন. 'ইতিমধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসাবে সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছে। অচিরেই ৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে উপজেলা সম্মেলনের যাত্রা শুরু হবে।
 
অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল সম্মেলন হবে এমন ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি (অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা) দলীয় কর্মীদের মূল্যায়ন না করে জামায়াত শিবির ক্যাডারদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দিয়ে বেড়াচ্ছেন এটা দলের জন্য ক্ষতি। তিনি আরো বলেন, আমরা দলীয় কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছি না। এমপির বিতর্কীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি মাত্র।
 
অন্যদিকে এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা নৌকার প্রার্থীর বিরোধীতা করেছিল তারাই আজ দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা বাদ দিয়ে আমার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছেন। তিনি ওই সব নেতাদের প্রশ্ন করেন নৌকার দুর্দিনে দলীয় পদ ধরে রেখেও আপনারা নির্বাচনে আসেননি কেন?