রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজ চালুর পাঁচ বছরেও গড়ে উঠেনি স্থায়ী ক্যাম্পাস

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

চালুর পাঁচ বছরেও হয়নি রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস। শিক্ষক আর আবাসন সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে শিক্ষার্থীদের। হাসপাতালের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সা শিক্ষা কার্যক্রম। নেই শিক্ষার্থীদের থাকার মতো আবাসিক কোনো হোস্টেল।

২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি ৫১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় করোনারি ইউনিট বহুতল ভবনের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করে রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় গড়ে তোলা হয় দুটি অস্থায়ী হোস্টেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরও ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত না হওয়ায় জেনারেল হাসপাতালে যেতে হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিত্সকদের। নির্মাণ হয়নি মেডিক্যাল কলেজের স্থায়ী কোনো ভবন। ফলে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে হূদরোগ করোনারি বিভাগে চলছে মেডিক্যাল কলেজের যাবতীয় কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ছেলে-মেয়ে বসছে একই শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে। নেই ভালো মানের কোনো লাইব্রেরির ব্যবস্থাও। অন্যদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আবাসিক হোস্টেলের সমস্যায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা।

রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নামেই হোস্টেল। নেই কোনো আবাসিক সুযোগ-সুবিধা। জরাজীর্ণ ভাঙা দালানে ঠাঁই মিলেছে মাত্র কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর। বাকিদের কপালে তাও জোটেনি। নেই পড়ার মতো পরিবেশ।

এদিকে রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিপু সুলতান বলেন, অস্থায়ী রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজ ভবনটিতে বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত। কিন্তু কলেজটির স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকার কারণে সংকটের চাহিদা অনেক বেশি। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা প্রকট। একই সাথে শিক্ষার্থীদের রাখার জায়গারও খুবই সমস্যা। নিজস্ব ক্যাম্পাসের কাজ শুরু করতে না পারার কারণে এ সমস্যা জটিল হয়ে উঠেছে। রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ও থাকার ব্যবস্থাটা উন্নত করা গেলে এ সমস্যা নিরসন করা সম্ভব।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য হ্যাচারি এলাকায় ২০ একর যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা অধিগ্রহণের সমস্যা প্রায় সমাধান হয়ে গেছে। শিগগিরই জমি মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জমি হয়ে গেলে ভবনের কাজও দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ রাঙ্গামাটি মেডিক্যালের জমি সংক্রান্ত কাগজপত্রের কপি খুব তাড়াতাড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জেলার ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ইতিপূর্বেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।