প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশের মেয়েরা এখন চাকরি-বাকরি, খেলাধুলাসহ সব দিক দিয়ে এগিয়েছে। এমনকি এভারেস্টও জয় করে ফেলেছে। সংসদ সদস্য, বিচারপতি, শিক্ষক, পাইলট, মেজর জেনারেল, পুলিশ, বিমান বাহিনীসহ প্রত্যেকটি স্থানে মেয়েরা কাজ করছে। আর এ কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ছেলেরা যা পারে মেয়েরা তার থেকে ভালোই পারে। তিনি বলেন, এ কথা মনে রাখতে হবে একটা সমাজকে যদি গড়ে তুলতে হয়, আর যে সমাজে অর্ধেক নারী, তাদের বাদ দিয়ে সমাজ কখনো গড়ে উঠতে পারে না। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকাল আমরা দেখি প্রায়ই শিশু ধর্ষণ ও নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যারা করে তারা সমাজের শত্রু। তাদের প্রতি ঘৃণা জানাতে হবে। একইভাবে তাকে একেবারে সমাজ থেকে বের করে দেওয়া প্রয়োজন। ধর্ষণকারীর শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের সচেষ্ট থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণকে বিশ্বব্যাপী সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, এমনকি উন্নত সভ্য দেশেও এই সমস্যাটা রয়েছে। এর বিরুদ্ধে আরও জনমত সৃষ্টি করা দরকার। ধর্ষকের প্রতি যেন সবার ঘৃণা জন্মায়, সেজন্য তাদের নাম-পরিচয় ভালোভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্যাতিতা নারী নয়, যে ধর্ষক বা নির্যাতনকারী, তার চেহারা এমনভাবে প্রচার করতে হবে যেন সমাজের প্রত্যেকটা মানুষ তাকে ঘৃণার চোখে দেখে।
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, শুধু আইন করলে সহিংসতা ও বৈষম্য দূর হবে না। এজন্য সমাজের সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে দরকার। নারী-পুরুষ সমন্বয়ে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করা সব থেকে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে নারীদের অধিকার দিয়েছেন বলে নারীরা আজ এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে সম্মাননাই পাই না কেন সবই আমার দেশের মানুষের। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যেই সম্মাননাটা পেয়েছি, সেটা আমি উত্সর্গ করেছি আমার বাংলাদেশের মা-বোনদের, বিশ্বের সকল নির্যাতিত নারীদের।’ দেশের নারী সমাজকে নিজের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে সমাজের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। যদিও ক্ষমতা দিয়েছি (স্থানীয় সরকারে) তবুও তারা সব জায়গায় ক্ষমতাটি প্রয়োগ করতে পারেন না। যারা দায়িত্বে আছেন (স্থানীয় সরকারে) তাদের নিজেদের ক্ষমতাটা নিজেদের অর্জন করে নিতে হবে। কেউ (ক্ষমতা) কখনো হাতে তুলে দেয় না, এটা হলো বাস্তবতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে আমরা এক-তৃতীয়াংশ নারী আসনের ব্যবস্থা করেছি। ইউনিয়ন এবং উপজেলাসহ সব জায়গায় একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পাঁচ ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে জয়িতা পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নাহার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নাহার, বাংলাদেশে ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি মিয়া সেপো প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।