‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে চবি উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণে উদ্বেগ ৮ সিনেট সদস্যের

চবি সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আটজন সিনেট সদস্য। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠান তারা। বিবৃতিতে উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্ষদ সিনেটের এই আট সদস্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ধরনের নিময়নীতির তোয়াক্কা না করে বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে গত ৭ মার্চ নিজেকে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য। এ পদে নিয়োগের নীতিমালা এবং ১৯৭৩ সালের চবি অ্যাক্টের কোনো তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এ পদে নিজেকে নিজেই নিয়োগ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি বঙ্গবন্ধু চেয়ারের মর্যাদা এবং সম্মানক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি এ চেয়ারে বসার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, এ পদে নিয়োগের প্রধান দুটি শর্ত হচ্ছে, ২০ বছর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানের প্রকাশনায় কমপক্ষে ১০টি প্রবন্ধ বা নিবন্ধ প্রকাশ করা, যা বর্তমান উপাচার্য পূরণ করেননি। চবি এ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ধারা ২৬ (এন) অনুযায়ী যে কোনো গবেষণা সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য চবির একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ প্রয়োজন। অথচ এ বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি। পাশাপাশি এ পদে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন আবশ্যক। অথচ এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। সিন্ডিকেট সভায় কেবল বঙ্গবন্ধু চেয়ার নিয়োগের নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। সেখানেও নিয়ম নীতি যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুসরণ না করায় নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত পোষণ) দেন বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতারসহ দুজন সিন্ডিকেট সদস্য। বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে নিয়োগের নীতিমালা অনুসরণ না করে এবং চবি এ্যাক্ট- ১৯৭৩ এর নিয়মনীতি ভঙ্গ করে উপাচার্য কেবল নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে সম্মানজনক এ পদটি বিতর্কিতভাবে গ্রহণ করেছেন যা নীতিবহির্ভূত এবং অনভিপ্রেত।

‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’কে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তা নিরসন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সিনেটরবৃন্দ। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সিনেটররা হলেন- নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এস এস মনিরুল হাসান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল।