তেল-পিয়াজ যাচ্ছে মিয়ানমারে, আসছে মাদক

 
উখিয়ার কতিপয় ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তেল, পিয়াজসহ নিত্যপণ্য যাচ্ছে মিয়ানমারে। বিনিময়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আসছে মরণনেশা ইয়াবা সহ রকমারি মাদক দ্রব্য। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের হাতে মাঝেমধ্যে কিছু কিছু মাদকের চালান উদ্ধার হলেও পাচারকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে পাচার বাণিজ্য।
 
কক্সবাজারের বেসরকারি এনজিও সংস্থা হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, এখানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকার কারণে মিয়ানমারের নিত্যপণ্য পাচারের ধারবাহিকতা সম্পর্কে অনেকেই অবগত থাকা স্বত্ত্বেও এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করছে না। ফলে নিত্যপণ্য পাচারের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতাসহ পেটুয়াবাহিনীর কতিপয় সদস্যদের ম্যানেজ করে ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকার তেল, পিয়াজসহ নিত্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার করায় দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন ওই এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি/সম্পাদকের স্বাক্ষরিত টোকেনের উপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকার নিত্যপণ্য তুমব্রু বাজার যাচ্ছে। পরে এসব মালামাল নিমিষেই তুমব্রু খাল পার হয়ে ওপারে চলে যাচ্ছে। এসব ব্যবসায়ীরা খুচরা বিক্রির অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত নিত্যপণ্য পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও জনস্বার্থের অজুহাত খাড়া করার কারণে বিজিবি সদস্যরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
 
অভিযোগ উঠেছে, সদর এলাকার পাইকারী ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ ষ্টোর থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার ভোজ্য তেল, পিয়াজ সহ নিত্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম সওদাগর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন ম্যানেজ থাকার কারণে ওই ব্যবসায়ী নির্দ্বীধায় নিত্যপণ্য পাচার করতে সক্ষম হচ্ছে।
 
তবে বিশ্বনাথ ষ্টোরের মালিক রতন বিশ্বাস পাচারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের মালামাল বিক্রি করছে। ওইসব মালামাল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা জানার বিষয় নয়। 
 
এদিকে সীমান্তের বিজিবি সদস্যরা প্রতিনিয়ত উদ্ধার করছে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসা বোতলজাত মাদক দ্রব্য, বিয়ার সহ মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট। ডেইলপাড়া সীমান্তের প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী জানান, ডেইলপাড়া সীমান্ত এখন মাদক পাচারের নিরাপদ রোটে পরিণত হয়েছে।
 
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম খান জানান, সম্প্রতি উখিয়া থানা পুলিশ ডেইলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসা মাদক দ্রব্য উদ্ধার ও পাচারকারীদের আটকের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
 
উপকূলের রেজু বিজিবির সুবেদার মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান জানান, পাচারকারীরা ঘণ্টায় ঘণ্টায় পাচারের কৌশল পরিবর্তন করার কারণে ইয়াবা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও গত এক মাসে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইয়াবা সহ যানবাহন আটক করা হয়েছে।